বাজেট ২০২৬-২৭: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কর ছাড়ের পরিকল্পনা

দেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্রিয়েটর ইকোনমিকে আরও শক্তিশালী করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় ধরনের কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে অর্জিত ডিজিটাল আয়ের ওপর বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ উৎস কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় দেশে আনার সময় উৎসে কর কাটা হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে স্বাধীনভাবে কাজ করা কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের এই কর আর দিতে হবে না।
বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মতে, এ সুবিধা বাস্তবায়নের জন্য ফিন্যান্স বিল ২০২৬-এ প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনী যুক্ত করা হবে। তবে কর ছাড়ের এই সুবিধা শুধুমাত্র স্বতন্ত্র কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য প্রযোজ্য হবে। কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, প্রোডাকশন হাউস বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় আসবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতোমধ্যে এ প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। ফলে আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাওয়া বাজেটে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎস কর প্রত্যাহার হলে দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতারা আরও বেশি উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে ক্রিয়েটর ইকোনমি আরও বিস্তৃত হবে।
সম্প্রতি কনটেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চিত্ত মিডিয়ার মালিক জুয়েলও জানিয়েছেন, ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট নির্মাণ খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় উৎস কর প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর উৎসে কর কাটা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকটি ইতোমধ্যে পূর্বে কেটে নেওয়া করের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় পাঁচ লাখ ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা, সফটওয়্যার, ডিজাইন, মার্কেটিং এবং কনটেন্ট নির্মাণ খাতে কাজ করছেন। এই বৃহৎ কর্মশক্তি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে বাজেটে নগর পরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্যও স্বস্তির খবর থাকতে পারে। রাজধানীর মেট্রোরেল সেবার ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা আরও এক বছর বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এর ফলে আপাতত মেট্রোরেলের ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।



