বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
জীবনযাপন

বৃষ্টিতে ফোন ভিজে গেলে করণীয়

SMARTPHONE_20250602_102659122

তপ্ত গরমের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই ভিজছেন বৃষ্টিতে। বৃষ্টির পানিতে যেকোনো সময়ই ফোন ভিজে যেতে পারে। ফলে যাদের পানিরোধী ফোন নেই, বৃষ্টি তাদের জন্য ভীতিকরই বটে। মনে হয় এই ফোন ঠিক থাকবে তো?

পরের কাজটা অনেকেই একইভাবে করেন— স্ক্রিনে চোখ দেন, বোতাম চাপেন, দেখতে চান চলছে কি-না। এই একটা কাজই সবচেয়ে বড় ভুল। কিন্তু ভেজা ফোন বা ল্যাপটপের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেয় ডিভাইসটা বাঁচবে কি-না।

প্রথম কাজ — বন্ধ করুন, কোনো বোতাম চাপবেন না

ঢাকার ইস্টার্ন প্লাজার মোবাইল মেরামত প্রতিষ্ঠান সাইম প্লাসের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল হোসেন বলছেন, ‘ডিভাইস ভিজে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি কাজ।’ কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ যা করেন সেটা হল — স্ক্রিনে বারবার চাপ দেন, দেখতে চান চলছে কি-না, ক্যামেরা খোলেন, মেসেজ দেখেন। এই প্রতিটি কাজই পরিস্থিতি আরও খারাপ করে।
কারণটা সহজ। ভেজা অবস্থায় বিদ্যুৎ চললে শর্ট সার্কিট হয়। আর শর্ট সার্কিট হলে সার্কিট বোর্ড পুড়ে যায়। সেই ক্ষতি মেরামত করা অনেক বেশি কঠিন— কখনও কখনও অসম্ভব।

কামালের পরামর্শ, ‘ডিভাইস ভিজলে প্রথম কাজ — পাওয়ার বন্ধ। আর যদি আগে থেকেই বন্ধ থাকে, চালু করার চেষ্টা করবেন না।’ চার্জে লাগানো থাকলে সবার আগে প্লাগ খুলুন। ফোন বা ল্যাপটপ ভিজে গেলে আর সেটা চার্জে লাগানো থাকলে — সেটা শুধু ডিভাইসের জন্য নয়, আপনার নিজের জন্যও বিপজ্জনক। ভেজা ডিভাইসে বিদ্যুতের সংযোগ মানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি। তাই চার্জে লাগানো থাকলে সবার আগে প্লাগ খুলুন — ডিভাইস বন্ধ করার আগেও।

এই কাজটা মাথায় রাখা কঠিন। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ নিজের ফোন বা ল্যাপটপ বাঁচানোর কথা ভাবে, নিজের সুরক্ষার কথা পরে। তবে অগ্রাধিকারটা উল্টো হওয়া দরকার। বাইরের পানি মুছুন — কিন্তু ঝাঁকানো যাবে না। ফোন বন্ধ করার পর একটা নরম শুকনা কাপড় বা টিস্যু দিয়ে বাইরের পানি মুছে নিতে হবে। চার্জিং পোর্ট, হেডফোন জ্যাক, স্পিকারের গ্রিল — এই জায়গাগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দিন।

ফোনের ব্যাটারি, সিম কার্ড বা মেমোরি কার্ড খোলা গেলে সেগুলো আলাদা করে ফেলতে হবে। এতে ভেতরের অংশ দ্রুত শুকানোর সুযোগ পায়। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকাবেন না — এই ভুলে ফোনটাই নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত তাপ যন্ত্রের ভেতরের অংশ— বিশেষত ব্যাটারি এবং সার্কিট বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমনকি গরম বাতাস পানিকে আরও গভীরে ঠেলে দেয়।

তাই ফোন ভিজে গেলে সঠিক পদ্ধতি হল প্রাকৃতিক বাতাসে শুকানো। ফ্যানের নিচে বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখতে হবে। অনেকে আবার চালের মধ্যে ফোন রাখে শুকাতে। এই পদ্ধতি কিছুটা কাজ করে, তবে শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়।

সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল- সিলিকা জেল ব্যবহার করা। জুতার বাক্সে বা নতুন ব্যাগে যে ছোট প্যাকেটটা থাকে সেটা এই সময়ে কাজে আসে। যন্ত্রের কাছে কয়েকটা সিলিকা জেলের প্যাকেট রেখে দিলে আর্দ্রতা শুষে নেবে।

ফোন আর ল্যাপটপের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ প্রায় একই, তবে ল্যাপটপের জন্য একটা আলাদা কাজ আছে। ল্যাপটপ ভিজে গেলে বন্ধ করার পর সেটা উল্টো করে রাখতে হবে, মানে কিবোর্ডের দিক নিচে। এতে ভেতরে ঢুকে যাওয়া পানি মাধ্যাকর্ষণের কারণে বেরিয়ে আসার সুযোগ পায়। ব্যাটারি খোলা গেলে সেটাও আলাদা করতে হবে। তারপর এই অবস্থায় শুকনো জায়গায় রেখে দিন। অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে চালু করার আগে।

কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন, আর কখন সার্ভিস সেন্টারে যাবেন

এটা অনেকের জন্য সবচেয়ে কঠিন অংশ— অপেক্ষা করা। ঘণ্টা দুয়েক রেখে আবার চালানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। অন্তত ২৪ ঘণ্টা, সম্ভব হলে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করাই ভালো। সময়মতো শুকানোর পরও যদি ফোন বা ল্যাপটপ চালু না হয়, স্ক্রিন ঝাপসা দেখায়, শব্দে সমস্যা হয় বা চার্জ নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দেরি না করে সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যেতে হবে। ভেতরে ক্ষয় শুরু হলে সময়মতো ঠিক করলে বাঁচানো যায়, দেরি করলে স্থায়ী ক্ষতি হয়।

তবে যন্ত্র ভিজে যাওয়ার পরের প্রথম কয়েক মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক কাজ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফোন বা ল্যাপটপ বাঁচানো যায়। আর ভুল করলে মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বৃষ্টিতে ফোন বা ল্যাপটপ রক্ষার সবচেয়ে ভালো উপায় অবশ্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া— পানিরোধক ব্যাগ বা পলিথিন ব্যবহার। মনে রাখবেন- বন্ধ করুন, প্লাগ খুলুন, মুছুন, অপেক্ষা করুন। এই চারটা কাজই যথেষ্ট।

জীবনযাপনফোনবৃষ্টি