বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
এডিটরস পিক

বিড়ালদের শহর ইস্তাম্বুল, পর্যটকদের কাছে অনন্য আকর্ষণ

Istanbul_photo.width-750

ইউরোপ আর এশিয়ার মাঝখানে বসফরাস প্রণালীর দু-পাশে বিস্তৃত তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর হল ইস্তাম্বুল যা কিনা বিশ্ববাসীর কাছে ক্যাটস্তাম্বুল নামেও পরিচিত। এ শহরে বসবাস প্রায় দেড় কোটি মানুষের। আর মানুষের পাশাপাশি দাপট নিয়ে বসবাস করে প্রায় আড়াই লাখ বিড়াল।

এ শহরের চতুর গাঙচিল পাখিগুলো পথচারীদের ধোঁকা দিয়ে বিড়ালের খাবার মেশিন থেকে খাবার পেতে বিড়ালের ডাক নকল করে ডেকে থাকে। ২০২৫ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে সিগালদের বসবাসের এ রাস্তায় রাজত্ব করে বিড়ালরা।

অটোম্যান সাম্রাজ্যকালীন সময়ে বিড়ালদের খাওয়ানো ছিল আলাদা একটি পেশা। নিয়োজিত ছিল বহু লোক যাদের কাজ ছিল বিড়ালদের খাবার দেওয়া ও দেখাশোনা করা। পথচারীরা চাইলে তাদের থেকে বিড়ালের খাবার কিনেও বিড়ালদের খাওয়াতে পারতেন।

তবে এর সূচনা হয়েছিল আরও গভীরে। ফিনল্যান্ডের বনিকরা ব্যবসার কাজে আসার পথে জাহাজে করে বিড়াল নিয়ে আসতেন। বিড়ালগুলো আনা হতো ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে। পরে রোমান ও অটোম্যান যুগে সিল্ক ও মসলাবোঝাই জাহাজ যখন ইস্তাম্বুলে বন্দরে আসত অসংখ্য বিড়াল। এভাবেই এ শহরে আগমন ঘটে বিড়ালদের।

ফটোগ্রাফার ও সিটি অব ইস্তাম্বুল বইয়ের লেখক মার্সেল হায়নিন বলেন, ইস্তাম্বুলের বিড়ালগুলো পুরোপুরি পোষা নয় আবার পুরোপুরি পথেরও নয়। এরা এর মাঝামাঝি বিশেষ অবস্থানে আছে। তার ভাষায়, এই বিড়ালগুলোর কোনো নির্দিষ্ট মালিক নেই বরং পুরো মহল্লা মিলেই তাদের দেখাশোনা করে।

বর্তমানেও বিড়ালদের প্রতি ভালোবাসা কমেনি। শহরটির পথপ্রাণীদের জন্য পৌরসভা কর্তৃক ফ্রি ভেটেনারি চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। শহরের জায়গায় জায়গায় রয়েছে ছোট ছোট কাঠের ঘর। এছাড়াও রয়েছে বিড়ালের খাবার সরবরাহ মেশিন যেখানে প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে খাবার বেরিয়ে আসে বিড়ালের।

একসময় যে বিড়ালের কাজ ছিল গুদামের খাবার রক্ষা করা, আজ সে চিত্র পাল্টে গেছে পুরোটাই। শহরের জায়গায় জায়গায় শুয়ে, বসে ও ঘুমন্ত অবস্থায় দেখা যায় বিড়ালদের। পুরো শহর জুড়ে রাজত্ব করছে তারা। আর তাদের দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে যান বিড়ালপ্রেমী পর্যটকেরা।

ইস্তাম্বুলতুরস্কবিড়ালশহর