১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
এডিটরস পিক

এক মায়ের দৌড় আজ কোটি মানুষের ইবাদত: হাজেরা (আ.)- এর সবর ও তাওয়াক্কুল

dua-in-safa-marwa-a-complete-guide-to-transformative-supplication-during-sai

মায়ের ভালোবাসা কতটা গভীর হতে পারে, তার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ হলেন হযরত হাজরা (আ.)। একজন অসহায় মা, মরুভূমির মাঝে ছোট্ট শিশুকে বাঁচানোর জন্য পানির খোঁজে দৌড়াচ্ছেন—আর সেই দৌড়ই আজ বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের জন্য হজের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে পরিণত হয়েছে।

আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ.) এবং শিশু পুত্র ইসমাইল (আ.)- কে রেখে আসেন মক্কার এক জনমানবহীন উত্তপ্ত মরুভূমিতে। চারদিকে শুধু বালি আর পাহাড়, নেই পানি, নেই খাদ্য, নেই কোনো মানুষ। একসময় পানির শেষ ফোঁটাটুকুও ফুরিয়ে যায়। তৃষ্ণায় কাঁদতে থাকে ছোট্ট শিশু ইসমাইল (আ.)।

একজন মা তখন কী আর করতে পারেন?

কিন্তু হাজেরা (আ.) বসে থাকেননি। তিনি ছুটে গিয়েছিলেন সাফা পাহাড়ে, হয়তো কোথাও পানি বা কোনো কাফেলা দেখা যাবে এই আশায়। কিছু না পেয়ে আবার দৌড়ে গিয়েছিলেন মারওয়া পাহাড়ে। এভাবে তিনি ৭ বার দৌড়েছিলেন দুই পাহাড়ের মাঝে। ক্লান্ত শরীর, শুকনো গলা, কিন্তু মায়ের আশা থামেনি।

আর তখনই আসে আল্লাহর রহমত। শিশু ইসমাইল (আ.)- এর পায়ের কাছ থেকে অলৌকিকভাবে বের হয়ে আসে জমজমের পানি—যে পানি আজও পৃথিবীর কোটি মানুষ পান করছে তৃপ্তি আর বরকতের নিদর্শন হিসেবে।
জমজম কূপ শুধু একটি কূপ নয়, এটি এক মায়ের ত্যাগ, বিশ্বাস আর ভালোবাসার জীবন্ত স্মৃতি।

আজ যখন মুসলমানরা হজ্জ পালন করতে যান, তখন তারা হাজেরা (আ.)-এর সেই দৌড়ের স্মরণে সাফা ও মারওয়ার মাঝে ‘সাঈ’ করেন।
একজন মায়ের সন্তানের জন্য করা ছোট্ট চেষ্টা—আল্লাহ সেটিকে এমন মর্যাদা দিয়েছেন যে কেয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষ সেই আমল অনুসরণ করবে।

Advertisements

এই গল্প শুধু ইতিহাস নয়, এটি বিশ্বাসের গল্প। যা শেখায়—আল্লাহ কখনো একজন মায়ের কান্না ও চেষ্টা বৃথা যেতে দেন না। যেখানে মানুষের আশা শেষ হয়ে যায়, সেখান থেকেই শুরু হয় আল্লাহর রহমত।

হাজেরা (আ.) হয়তো তখন জানতেন না, তাঁর সেই দৌড় একদিন ইবাদতে পরিণত হবে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে আজও পৃথিবীর প্রতিটি হজযাত্রীর পদচারণায় বেঁচে আছেন সেই মহান মা।

Advertisements