বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

ঈদের কাজের চাপেও হাতের কোমলতা ধরে রাখবেন যেভাবে

ChatGPT Image May 26, 2026, 12_51_33 AM

কোরবানির ঈদ মানেই রান্নাবান্না, মাংস কাটাকাটি, ধোয়া-মোছা আর সারাদিন পানি ও ডিটারজেন্টের ব্যবহার। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে হাতে। ঠিকমতো যত্ন না নিলে ঈদের পর হাত হয়ে যেতে পারে রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন। নখ ভেঙে যাওয়া, কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ঈদের আগে ও পরে হাতের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

ঈদের আগেই শুরু হোক হাতের যত্ন

ঈদের অন্তত তিন দিন আগে থেকেই হাতের যত্ন শুরু করা ভালো। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ভালো মানের হ্যান্ড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে হাতের ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে। যাদের হাত দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়, তারা গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা জেল ও ময়েশ্চারাইজার একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাতের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বেশ কার্যকর।

সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করে হাতের মৃত কোষ পরিষ্কার করলে হাত উজ্জ্বল ও কোমল দেখায়। চাইলে ঘরোয়া উপায়ে চিনি, মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়েও স্ক্রাব তৈরি করা যায়।

নখের যত্নেও থাকুক বাড়তি নজর

কোরবানির সময় নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লম্বা নখ কাজের সময় অস্বস্তি তৈরি করে এবং ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে থাকায় নখের ভেতর ব্যাকটেরিয়া জমে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে।

নিয়মিত নখ পরিষ্কার রাখা এবং নখের নিচে ময়লা জমতে না দেওয়া জরুরি। নখ শক্ত রাখতে কিউটিকল অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে নারকেল তেল বা বাদাম তেল নখ ও কিউটিকলে ম্যাসাজ করলে নখ কম ভাঙে এবং শুষ্কতাও কমে।

এই সময় ভারী নেইল আর্ট বা জেল পলিশ এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ, দীর্ঘ সময় পানি ও ডিটারজেন্ট ব্যবহারে পলিশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ম্যানিকিউরের সঠিক সময় কখন

ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে ম্যানিকিউর করিয়ে নিলে হাত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন দেখায়। আর ঈদের পর রিপেয়ার বা হাইড্রেটিং ম্যানিকিউর করালে হাতের শুষ্কতা ও ক্ষতিগ্রস্ত কিউটিকল দ্রুত ঠিক হয়ে যায়। বিশেষ করে যারা রান্না বা মাংস প্রসেসিংয়ের কাজে বেশি সময় ব্যয় করেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী।

হাতের শুষ্কতা ঠেকাতে যা করবেন

কোরবানির সময় বারবার পানি, সাবান ও ডিটারজেন্ট ব্যবহারের কারণে হাতের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে যায়। তাই প্রতিবার হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খুব কড়া সাবানের বদলে মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা ভালো।

মাংস ধোয়া বা বাসন পরিষ্কারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করলে হাত অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে। কাজ শেষে কুসুম গরম পানিতে হাত ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগালে হাত দ্রুত শুষ্ক হবে না।

ঘরোয়া যত্নে হাত থাকুক কোমল

১। সপ্তাহে অন্তত এক দিন হাতে অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল ম্যাসাজ করুন।

২। রাতে ঘুমানোর আগে হ্যান্ড ক্রিম লাগিয়ে কটন গ্লাভস পরে ঘুমালে হাত নরম থাকে।

৩। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, কারণ শরীরের পানিশূন্যতা ত্বকের শুষ্কতা বাড়ায়।

৪। লেবু ও মধু মিশিয়ে হাতে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

৫। রোদে বেশি কাজ করলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন, এতে হাতের ত্বক কালচে হওয়ার ঝুঁকি কমে।

সঠিক যত্ন নিলে ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও হাত থাকবে কোমল, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও সুন্দর।

ঈদযত্নহাত