রঙে গাঢ়, যত্নেও নিরাপদ- ঈদে ট্রেন্ডিং অর্গানিক মেহেদি

চাঁদরাতে মেহেদি না পরলে যেন উৎসবের আমেজ আসে না। মেহেদি পরা নিয়ে ছোট ভাইবোনদের ছোটাছুটি, কার মেহেদির রং কত বেশি গাঢ় হলো তা নিয়ে প্রতিযোগিতা, মেহেদির কড়া গন্ধ -এসবই যেন ঈদের আসল আমেজ।
একসময় বাড়ির ছোট থেকে বড় সকল নারী সদস্যই পাতা মেহেদি চুল, নখ আর হাতের তালুতে দিতেন। সেইসব দিন বদলেছে। যুগে যুগে মেহেদি দেওয়ার ধরনে ও মাধ্যমে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানের ট্রেন্ডে সবাই অর্গানিক মেহেদির দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে আছে অর্গানিক মেহেদি।

অর্গানিক মেহেদি আসলে কী?
অর্গানিক মেহেদি হলো এমন মেহেদি, যা মূলত প্রাকৃতিক মেহেদি পাতা গুঁড়া, লেবু, চিনি ও বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে তৈরি করা হয়। এতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল, কৃত্রিম রং বা পিপিডি (PPD) জাতীয় উপাদান থাকে না।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্গানিক মেহেদি ব্র্যান্ডও এখন “হালাল”, “স্কিন-সেইফ” ও “কেমিক্যাল-ফ্রি” পণ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
কেন হঠাৎ এত জনপ্রিয়?
এ ব্যাপারে মেহেদি বাই বীথি ( Mehedi by Bithi )– এর স্বত্বাধিকারী অনন্যা কে জানান, কয়েক বছর আগেও বাজারের অনেক মেহেদি ব্যবহার করে হাতে জ্বালাপোড়া, র্যাশ, চামড়া ওঠে যাওয়া বা অস্বাভাবিক কালচে দাগ হওয়ার অভিযোগ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরামে অনেক ব্যবহারকারী কেমিক্যাল মেহেদির ক্ষতিকর দিক নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এই ভয় থেকেই মানুষ এখন নিরাপদ বিকল্প খুঁজছে। অর্গানিক মেহেদি ধীরে ধীরে রং ধরে, কিন্তু রং ফেডও হয় স্বাভাবিকভাবে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, এটি হাতে “স্টিকার” এর মতো উঠে আসে না এবং ত্বকে কম ক্ষতি করে।

সেনসিটিভ স্কিন এর জন্য বীথি পরামর্শ দিয়েছেন, প্যাচ টেস্ট করতে। তার মতে, যেকোনো নতুন মেহেদি ব্যবহারের আগে “প্যাচ টেস্ট” করা উচিত। প্যাচ টেস্ট হলো মেহেদি স্কিনে ব্যবহারের আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে দেখা। মেহেদি আপনার ত্বকে কোনো অ্যালার্জি বা ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে কি না সেটা অবশ্যই জানতে হবে।
অর্গানিক মেহেদির দাম কিছুটা বেশি?
সাধারণ মেহেদির তুলনায় অর্গানিক মেহেদির দাম কিছুটা বেশি। কারণ এটি হাতে তৈরি, সংরক্ষণকাল কম এবং ভালো মানের কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে ছোট একটি অর্গানিক কোনের দাম সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
অর্গানিক মেহেদির রং গাঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী করার উপায় :
১. মেহেদি কোণ অর্থাৎ পার্সেলটি পাবার সাথে সাথে মেহেদি কোণটি ডিপ ফ্রিজে রাখুন। যেহেতু মেহেদি ১০০% প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি তাই সাধারণ তাপমাত্রায় ফ্রিজের নরমাল অংশে রাখলে মেহেদি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২. ব্যবহারের পূর্বে মেহেদি কোণটি ৩০ মিনিটের জন্য ফ্রিজের বাহিরে রাখুন।
৩. দীর্ঘস্থায়ী গাঢ় রঙের জন্য সারারাত মেহেদি হাতে লাগিয়ে রাখুন। কমপক্ষে ছয় ঘন্টা হাতে মেহেদি থাকতে দিন। ভালো ফলাফলের জন্য ১০ থেকে ১২ ঘন্টা রাখার পরামর্শ করা হয়।

৪.মেহেদী হালকা শুকিয়ে আসলে একটি পাত্রে ৮ থেকে ১০ টি লং নিন। এরপর লবঙ্গ গরম হলে, হালকা গরম লবঙ্গের ধোঁয়া নিন। ধোঁয়া নিলে রং দ্রুত গাঢ় হয়। তবে খুব বেশি তাপ যেন না লাগে।
৫.মেহেদি তুলে ফেলার পর অন্তত ১২ ঘণ্টা পানি না লাগানো ভালো। পানি লাগলে রং দ্রুত হালকা হয়ে যেতে পারে।
৬.মেহেদি তুলে ফেলার পর হাতে সামান্য সরিষার তেল মালিশ করলে রং দীর্ঘস্থায়ী ও উজ্জ্বল দেখায়।
৮. সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে মেহেদি এপ্লাই করুন।
মেহেদির আসল রং সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় না। সাধারণত ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রং সবচেয়ে গাঢ় হয়।
বর্তমান প্রজন্ম এখন শুধু সুন্দর ডিজাইন নয়, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যও চায়। তাই কেমিক্যাল মেহেদির বদলে অর্গানিক মেহেদি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে নতুন প্রজন্মের পছন্দ।



