বাংলাদেশের ট্রাম্পকার্ড ঋতুপর্ণা

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ’। টানা তৃতীয়বারের শিরোপা জেতার মিশন নিয়ে এখন ভারতের গোয়ায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে গত বৃহস্পতিবার গোয়ায় পৌঁছানোর পর শুক্রবার থেকে পুরোদমে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা-আফঈদা খন্দকাররা। অনুশীলনে মেয়েদের ‘ফিনিশিং’ ঝালিয়ে নেওয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার।
আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ ‘বি’তে খেলবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন। এরপর ৩১ মে হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের দল।
চলতি বছরের শুরুতে এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে কোনো গোল না করে উল্টো ১১টি গোল হজম করে মেয়েরা। তবে সাফের মঞ্চে নামার আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে দুই সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে দল। সেখানে থাই ক্লাব কাসেম বুন্দিতকে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

বাংলাদেশকে সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতাতে এবারের আসরে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে দলের দুই প্রধান ফরোয়ার্ডকে। একজন ঋতুপর্ণা চাকমা আরেকজন তহুরা খাতুন।
মাত্র ২২ বছর বয়সেই জাতীয় দলের জার্সিতে ৩৬টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। মিয়ানমার উইমেন্স লিগের ক্লাব আয়ারবতী এফসির হয়ে খেলা এই উইঙ্গারদেশের হয়ে করেছেন ১৩টি আন্তর্জাতিক গোল। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বেও করেছিলেন ৪ গোল। তার গতি এবং ফিনিশিং স্কিল এবার ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের অন্যতম বড় অস্ত্র।
এদিকে বয়সভিত্তিক সব দল পেরিয়ে ২০১৮ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া তহুরা খাতুন বর্তমান দলের অন্যতম প্রধান শক্তি। ঘরোয়া ফুটবলে ফরাশগঞ্জ এসসির হয়ে খেলা এই স্ট্রাইকার ৩৪ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল। ফাইনাল থার্ডে প্রতিপক্ষের ডিবক্সের ভেতর বল নিয়ন্ত্রণ ও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের জন্য তার আলাদা সুনাম রয়েছে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চেনা মঞ্চে বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত চার বছর ধরে এই টুর্নামেন্টে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০২৪ সালের আসরেও ভারতের মাটিতেই স্বাগতিকদের গ্রুপ পর্বে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও লক্ষ্য তার ব্যতিক্রম নয়।



