শিশুদের জন্যে লিচু খাওয়া কতটা নিরাপদ?

এই গ্রীষ্মের মধু মাসের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ফল লিচু। শিশু থেকে শুরু করে বড় সবার খুব পছন্দের। তবে শিশুদের খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সচেতনতা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত বা খালি পেটে লিচু খাওয়া কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

কাঁচা ও আধাপাকা লিচুতে ‘হাইপোগ্লাইসিন’ ও ‘MCPG’ নামের কিছু প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান থাকে। শধু কাঁচা না পাকা লিচুতেও থাকে অতিরিক্ত পরিমানের গ্লুকোজ তৈরির উপাদান। এসব উপাদান শরীরে গ্লুকোজ তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে শিশুদের মধ্যে গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে
১। বমি বা বমি বমি ভাব
২। দুর্বলতা ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি
৩। মাথা ঘোরা
৪। ঘাম হওয়া
৫। খিঁচুনি
৬। অচেতন হয়ে যাওয়া
রাতে না খেয়ে ঘুমানো শিশু যদি সকালে খালি পেটে অনেক লিচু খায়, তাহলে ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কারণ তখন শরীরে গ্লুকোজ মজুত কম থাকে এবং লিচুর উপাদান রক্তের শর্করা আরও কমিয়ে দিতে পারে।
কেন শিশুদের বেশি ঝুঁকি?
শিশুদের শরীরে গ্লুকোজের সঞ্চয় তুলনামূলক কম থাকে। তাই দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে তাদের শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। এর মধ্যে অতিরিক্ত লিচু খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
১। শিশুদের কখনোই খালি পেটে লিচু খেতে দেবেন না
২। রাতে না খেয়ে ঘুমাতে না দেওয়া ভালো
৩। একসঙ্গে অতিরিক্ত লিচু খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে
৪। কাঁচা বা আধাপাকা লিচু এড়িয়ে চলা উচিত
৫। লিচু খাওয়ার আগে বা পরে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ভালো
সমস্যা দেখা দিলে কী করবেন?
লিচু খাওয়ার পর কোনো শিশু অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। দ্রুত শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
উপরের নিয়মগুলো মেনে শিশুদের লিচু খাওয়াবেন। সবার ক্ষেত্রেই যে সমস্যা তৈরি করতে পারে তাও কিন্তু ঠিক নয়।



