দেখতে সুন্দর, ভেতরে বিপদ! চিনবেন কীভাবে রাসায়নিক আম?

গ্রীষ্ম এলেই বাজার ভরে ওঠে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি কিংবা গোবিন্দভোগের ঘ্রাণে। রসালো আমের স্বাদে মজে ওঠেন ছোট-বড় সবাই। তবে এই মৌসুমে আমপ্রেমীদের জন্য বড় এক দুশ্চিন্তার নাম- রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বাজারজাত ও বেশি লাভের আশায় এখনো অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকাচ্ছেন, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ক্যালসিয়াম কারবাইড ব্যবহার করে ফল পাকানোর প্রবণতা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই রাসায়নিক বাতাসের আর্দ্রতার সঙ্গে মিশে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে, যা খুব দ্রুত আমের রং বদলে দেয়। বাইরে থেকে টকটকে হলুদ দেখালেও ভেতরে ফলটি পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ক্যালসিয়াম কারবাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে। এসব উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে বমি, পেটব্যথা, ত্বকের সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদে জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে কিছু সাধারণ কৌশল জানলে সহজেই প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম আর কৃত্রিমভাবে পাকানো আমের মধ্যে পার্থক্য বোঝা সম্ভব।

রঙেই মিলতে পারে ইঙ্গিত
স্বাভাবিকভাবে পাকা আমে সবুজ ও হলুদের মিশ্র আভা থাকে। পুরো ফলের রং সাধারণত একরকম হয় না। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম অনেক বেশি উজ্জ্বল ও সমান হলুদ দেখায়, যা অনেক সময় অস্বাভাবিক লাগে।
ঘ্রাণ বলে দেবে আসল কথা
আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে শুঁকলে যদি মিষ্টি ও প্রাকৃতিক সুবাস পাওয়া যায়, তাহলে সেটি সাধারণত নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে পাকা। বিপরীতে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে হয় কোনো ঘ্রাণ থাকে না, নয়তো হালকা ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়।
ভেতরের অংশেও মিলবে পার্থক্য
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কাটলে ভেতরে গাঢ় হলুদ বা জাফরানি রং দেখা যায় এবং শাঁস নরম ও রসালো হয়। কিন্তু কৃত্রিমভাবে পাকানো আম বাইরে নরম হলেও ভেতরে শক্ত, ফ্যাকাশে কিংবা রাবারের মতো অনুভূত হতে পারে।

পানির পরীক্ষাও কার্যকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজ একটি পরীক্ষায়ও কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। একটি পাত্রে পানি নিয়ে আম ডুবিয়ে দেখুন। স্বাভাবিকভাবে পাকা আম সাধারণত পানিতে ডুবে যায়। তবে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কিছু আম ভেসে থাকতে পারে।
অতিরিক্ত চকচকে আমে সতর্কতা
স্বাভাবিক আমের গায়ে ছোটখাটো দাগ বা অসমানত্ব থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত মসৃণ ও নিখুঁত দেখতে আম অনেক সময় কৃত্রিমভাবে পাকানো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, আম কেনার পর সরাসরি না খেয়ে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ফলের গায়ে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান দূর হতে পারে।

এ ছাড়া একেবারে পাকা আম না কিনে কিছুটা কাঁচা আম বাড়িতে এনে খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা চালের ভেতর রেখে স্বাভাবিকভাবে পাকানো বেশি নিরাপদ। পাশাপাশি পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে ফল কিনলে ঝুঁকি থেকেই যায়। সামান্য সচেতনতা পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।



