আয়েশ করে ঘুমিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা, এ যেনো ক্লান্ত জীবনের মিষ্টি বিদ্রোহ

ব্যস্ততা, নিরন্তর কাজের চাপ আর প্রতিযোগিতার দৌড়ে যখন মানুষের জীবন হাঁপিয়ে ওঠে, তখন একটু শান্তির ঘুমই যেন হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বিলাসিতা। এই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল- এ আয়োজন করা হলো এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা -‘পাওয়ার ন্যাপ কনটেস্ট’ বা দুপুরের ঘুম প্রতিযোগিতা।
গত শনিবার প্রখর রোদ উপেক্ষা করে শত শত তরুণ-তরুণী জড়ো হন হান নদী- এর তীরবর্তী এক পার্কে। তবে এটি কোনো উৎসব, প্রতিবাদ কিংবা কনসার্ট ছিল না- বরং সবার লক্ষ্য ছিল একটাই: একটু আয়েশ করে ঘুমানো! এই অনন্য আয়োজনটি করে সিউল মেট্রোপলিটন সরকার, যারা টানা তৃতীয় বছরের মতো এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে। কারণ, দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বে পরিশ্রমী জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও ঘুমের ঘাটতি সেখানে দীর্ঘদিনের সমস্যা। তাই ক্লান্তিকে উদযাপন করতেই এমন উদ্যোগ।
ঘুমের জন্য আলাদা সাজপোশাক!
প্রতিযোগিতার শর্ত ছিল বেশ অভিনব। অংশগ্রহণকারীদের ‘স্লিপিং বিউটি’ বা রাজপুত্রের মতো পোশাক পরে আসতে হয়েছে। কেউ এসেছেন জোসন রাজবংশের রাজকীয় সাজে, আবার কেউ বেছে নিয়েছেন কোয়ালার মতো ঘুমকাতুরে প্রাণীর অবতার।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পার্ক জুন-সিওক রাজকীয় পোশাক পরে জানান, পড়াশোনা ও পার্ট-টাইম কাজের চাপে তিনি দিনে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন। তাই এই প্রতিযোগিতায় তিনি দেখাতে চান- একজন ‘রাজা’ কীভাবে রাজকীয়ভাবে ঘুমায়।
অন্যদিকে, ইংরেজি শিক্ষক ইউ মি-ইয়ন কোয়ালার পোশাক পরে এসেছেন। দীর্ঘদিনের অনিদ্রায় ভোগা এই তরুণীর আশা ছিল- কোয়ালার মতো গভীর ঘুম হয়তো তার কাছেও ধরা দেবে।

বিজ্ঞানসম্মত বিচার
প্রতিযোগিতা ছিল শুধু মজার নয়, ছিল বিজ্ঞানসম্মতও। বিকেল ৩টায় সবাই চোখে মাস্ক পরে ঘুমিয়ে পড়লে আয়োজকরা তাদের হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করেন। যার হৃদস্পন্দন সবচেয়ে স্থির—তাকেই ধরা হয় গভীর ও প্রশান্ত ঘুমের অধিকারী, এবং সেই অনুযায়ী বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
চমকপ্রদ বিজয়ী
সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। দ্বিতীয় স্থান পান ৩৭ বছর বয়সী চাকরিজীবী হোয়াং দু-সং, যিনি রাতের শিফটে কাজ এবং গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই ক্লান্ত থাকেন। তিনি জানান, নদীর বাতাসে একটু বিশ্রাম নিতেই তিনি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন।
এই ‘পাওয়ার ন্যাপ কনটেস্ট’ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আধুনিক জীবনের ক্লান্তির বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। এটি মনে করিয়ে দেয়- কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রাম, একটু ঘুমও হতে পারে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার বড় চাবিকাঠি।



