বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
বিবিধ

হাম ছড়িয়েছে ৬১ জেলায়, প্রাদুর্ভাব থাকতে পারে আর কতদিন

Untitled-09-04-2026-22

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় উঠেই সিঁড়ির বাঁ পাশের দুটি কক্ষ নিয়ে ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড-২’। সেখানে শিশুদের জন্য ৩২টি শয্যা রয়েছে। তবে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় শয্যা পূরণ হয়ে গেছে অনেক আগেই। শয্যার পর কক্ষের মেঝে, এরপর করিডরের জায়গাও শেষ হয়ে গেলে শিশুদের ঠাঁই হয়েছে সিঁড়ির পাশের খালি জায়গায়। মেঝে, করিডর ছাপিয়ে সিঁড়ির সামনেও গড়াগড়ি করছে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুরা।

শয্যাসংকটে এমন দুর্ভোগের মধ্যেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ ভর্তি হওয়া শিশুদের চিকিৎসা চলছে। এতে কষ্টের শেষ নেই সেবা নিতে আসা মানুষের। এমন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা চলায় হামের সংক্রমণ আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

হাসপাতালের শিশু বিভাগ সূত্র জানায়, গত ১৮ মার্চ থেকে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে এখানে শিশুদের ভর্তি করা শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হতে পারে। তারা বলেছে, ইতিমধ্যে বেশি সংক্রমণ এমন এলাকাগুলোয় (হটস্পট) টিকাদান চলছে। দেশব্যাপী টিকাদান শুরু হবে তিন দিন পর, ২০ এপ্রিল। এর পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের বিচ্ছিন্ন রেখে (আইসোলেশন) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করছেন, টিকাদান, আইসোলেশন ও মানুষের সতর্কতার কারণে হামের সংক্রমণ কমে আসতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘দেশব্যাপী হাম–রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পক্ষ থেকে হামের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের শিশুদের বর্তমানে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ২০২৩ সালে ৮৬ শতাংশ শিশু টিকার প্রথম ডোজ ও ৮১ শতাংশ শিশু দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে। চার–পাঁচ বছরে টিকা না পাওয়া বা অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা হয়েছে এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সমান বা তার বেশি। এমন পরিস্থিতিতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। ইপিআইয়ের হিসাবে হাম–রুবেলার টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখ বা তার বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধে টিকার ভূমি অনেক বেশি। বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, টিকার দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু হবে ২০ এপ্রিল। সাধারণত ক্যাম্পেইন শুরুর দু–তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমতে দেখা যায়। ঠিকমতো টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হলে আশা করা যায়, প্রাদুর্ভাব থাকবে না।

ইপিআই বলছে, হাম যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের মধ্যেই এর প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যু বেশি দেখা যায়। হামের জটিলতার মধ্যে আছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনকেফালাইটিস, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা, শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা।

প্রাদুর্ভাবশয্যাসংকটশিশুহাম