বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
বিবিধ

উৎসবমুখর পরিবেশে রমনার বটমূলে নববর্ষ উদযাপন

WhatsApp Image 2026-04-14 at 12.51.49 PM (1)

বাংলা নববর্ষ বাঙালির জীবনে এক অনন্য আনন্দঘন উপলক্ষ। প্রতি বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে রাজধানীর রমনার বটমূলে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। সূর্য ওঠার আগেই চারদিক ভরে ওঠে উৎসবের আমেজে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরা—সবাই মিলে এক প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই ঐতিহাসিক স্থানটি।


ভোরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের পরিবেশনায় শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো” গানের সুরে পুরো এলাকা যেন নতুন করে জেগে ওঠে। গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন বাংলা সংস্কৃতির শেকড়ের এই নিবিড় প্রকাশ। বৈশাখের আগমনী বার্তা শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, এটি বাঙালির চেতনা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও নবজাগরণ।


রমনার বটমূল যেন এই দিনে হয়ে ওঠে এক বর্ণিল চিত্রপট। চারদিকে আলপনার নকশা, ফুলের সাজ, মুখে রঙিন আঁকিবুঁকি—সব মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্য। তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে গান গায়, কেউবা নাচে মেতে ওঠে, আবার কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত। লোকজ বাদ্যযন্ত্রের সুর, ঢোলের তাল, আর হাসি-আনন্দের কোলাহলে পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।


নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপর উপস্থিতি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষজন স্বস্তিতে উপভোগ করতে পেরেছেন এ উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত।


এই আয়োজন শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়, সারাদেশেই পালিত হয় নববর্ষ। তবে রমনার বটমূলের উৎসব যেন সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে এসে মানুষ ভুলে যায় সকল ভেদাভেদ, শ্রেণি-বৈষম্য কিংবা ধর্মীয় পার্থক্য। সবাই এক সুরে, এক আনন্দে মেতে ওঠে—এই মিলনই নববর্ষের আসল সৌন্দর্য।


দিন শেষে যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখনও রমনার বটমূলের প্রাণচাঞ্চল্য কমে না। বরং সারাদিনের আনন্দ স্মৃতিতে গেঁথে নিয়ে মানুষ ঘরে ফেরে নতুন আশায়, নতুন স্বপ্নে। পুরনো বছরের সব গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এই উৎসব বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।