বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
নারী

বিএনপি থেকে সংরক্ষিত আসনে মনোয়নপত্র সংগ্রহ করছেন চার জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী

untitled-2-1775979817

সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন বিএনপির কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কেউ ফরম সংগ্রহ করছেন, কেউ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ ও তদবির করছেন নারী নেত্রীরা। তৃণমূলের নেত্রী থেকে শুরু করে দল সমর্থিত শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীসহ পরিচিত মুখ সবাই এ প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছেন। এর মধ্যে মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন চার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। তারা হলেন: বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, রিজিয়া পারভীন এবং দিলরুবা খান। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে বলে জানিয়েছেন ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন। জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে যাঁরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন, তাঁদের দুই হাজার টাকা ফর্ম বাবদ দিতে হচ্ছে। আর জমার সময় ৫০ হাজার টাকা জামানত থাকছে।
সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন (নীলফামারী-৪) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর বাইরে কনকচাঁপা (সিরাজগঞ্জ-১), দিলরুবা খান (জয়পুরহাট-২), রিজিয়া পারভীন (কিশোরগঞ্জ), আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে কেউই নিশ্চিত নন, তারা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবেন কি না।

ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বেবী নাজনীন। তিনি বলেন, ‘দেশের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা, এটা আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। বিগত দিনে আমি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আপনারা জানেন, আমি বহির্বিশ্বে ছিলাম, সেখানে যত আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, সব সময় সক্রিয় ছিলাম এবং নেতৃত্বও দিয়েছি। আমরা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাসী, একটি শক্তিশালী আদর্শে বিশ্বাসী—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আস্থা, তারেক রহমানের বিশ্বাস। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, তিনি যেভাবে তরুণ প্রজন্মকে নতুন বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন, যেভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করছেন, সে জায়গায় তিনি একা কষ্ট করলে হবে না, আমাদের সবাইকে তাঁর সঙ্গে থেকে আদর্শিকভাবে কষ্ট করতে হবে, এটাই আমার চাওয়া।’

২০১৮ সালে সিরাজগঞ্জ–১ আসন থেকে সংসদ নির্বাচন করেন কনকচাঁপা। এবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন নেওয়ার পর তিনি জানালেন, ২০১৩ সালে বিএনপিতে তিনি যোগ দেন। তার দাবি, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর তার ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কনকচাঁপা বলেন, ‘বলা যায় আমি একরকম অবরুদ্ধ ছিলাম। বন্দী ছিলাম। আমার দেশের মাটিতে দীর্ঘদিন গান করতে পারিনি। একজন শিল্পীকে যখন কণ্ঠরোধ করা হয়, সেটাকে বন্দিত্বই বলা যায়। যা–ই হোক, আমি সবকিছু ভুলে যেতে চাই। নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছি। আমি সারা জীবন সমাজের অসহায় বৃদ্ধদের জন্য কাজ করে গেছি। আমার অনেকগুলো সংগঠন আছে। আমি সেই কাজগুলো বড় পর্দায় ছড়িয়ে দিতে চাই। মহান সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলতে চাই। জনগণের দুঃখের কথা বলতে চাই। অবশ্যই আমি একজন কণ্ঠশিল্পী, আমাদের শিল্পীদের যে সুবিধা–অসুবিধা, সেগুলো নিয়েও কথা বলতে চাই। এককথায় বলতে গেলে, সৎ এবং নিষ্ঠাবান থেকে মানবসেবা করাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য।’

রিজিয়া পারভীন বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মাধ্যমে নারীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চাই। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকলে আমার ভাবনাচিন্তা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব। এলাকার মানুষের কাজেও আসতে আসব, তাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারব। আমি যেহেতু গানের মানুষ, সংস্কৃতি অঙ্গনকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও জোর দেব। শিল্পীদের নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। ভিন্ন মতাদর্শের কারণে কোনো শিল্পী যেন তাঁদের শিল্পচর্চা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চাই। আমার লক্ষ্য একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা।’

দিলরুবা খান বলেন, ‘যাঁরা অনেক ত্যাগী, দল যাঁদের যোগ্য মনে করবে, তাঁদেরই যেন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। মনে হয়েছে, আমার নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা আছে। সরকারে থেকে এই কাজগুলো বড় পরিসরে করা সম্ভব। তাই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। বাকিটা দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের বিবেচনা।’

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে তারকাদের এই অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তা নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। নির্বাচনের আগে এই প্রতিযোগিতা আরও জমে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কনকচাঁপাদিলরুবা খানবিএনপিবেবী নাজনীনরিজিয়া পারভীনসংরক্ষিত আসন