ডায়াবেটিসে ফল নাকি ফলের রস, কোনটা স্বাস্থ্যকর?

ডায়াবেটিসের রোগীরা যেকোনো ফল খেতে পারেন না। রক্তে শর্করার মাত্রা ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাওয়া উচিত। তবে অনেকেই সকালের খাবারের সঙ্গে এক গ্লাস ফলের রস পান করে থাকেন স্বাস্থ্যকর ভেবে। কিন্তু ডায়াবেটিকদের জন্য এটি আদৌ নিরাপদ কি না— এটি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ফল সম্পূর্ণ খেলে ফাইবার ধীরে ধীরে শর্করাকে শোষিত হতে দেয়। কিন্তু ফলের রসে ফাইবার থাকে না, তাই রস খেলে রক্তে গ্লুকোজ এক লাফে বেড়ে যায়। ফলের রস আর চিনিযুক্ত রঙিন পানীয়ের মধ্যে তফাৎ খুব কম। দু’টিই শরীরে একসাথে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।
কেন ফলের রস ক্ষতিকর:
-রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি ইনসুলিনকে ঠিকভাবে কাজ করতে দেয় না।
-দীর্ঘমেয়াদে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি হয়।
-ওজন বৃদ্ধি, লিভার, কিডনি এবং হার্টের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
-রস তৈরি করার সময় ফলের ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, ভিটামিন ও খনিজও কমে যায়।
২০১৩ সনে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে তিনবার বা তার চেয়ে বেশি বার ফলের রস খেলে ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি ৮ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো নিয়মিত আপেল, নাসপাতি, ব্লুবেরি খেলে ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি কমে। আরও কিছু রঙিন ফল ডায়াবেটিস প্রতিরোধে উপকারী তবে সবার উপরে ব্লুবেরি (টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে ব্লুবেরি)।
তাহলে ডায়াবেটিস রোগী ফলের রস খাবে কি না? অন্যদের জন্য ফলের রস পান বেশ ভালো হলেও ডায়াবেটিস রোগী খুব বেশি ফলের রস খেতে পারবেন না। ডায়াবেটিসের রোগীদের বরং আস্ত ফল খাওয়া ভালো হবে; এতে কম চিনি, বেশি আঁশ থাকে। তবে অবশ্যই সবার উপরে ব্লুবেরি ও সবুজ আপেল থাকবে। টক জাতীয় অন্যান্য ফলসমূহও বেশ উপকারী (আমড়া, বাতাবী লেবু, কাঁচা আম ইত্যাদি)।



