বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

শিশুদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান

prothomalo-bangla_2026-04-09_smww9wis_IUB_Image

বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুদের দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ হামে আক্রান্ত হলে বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদও দিয়েছেন তাঁরা।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) হাম নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ‘আউটব্রেক অ্যালার্ট: প্রোটেক্টিং আওয়ার কমিউনিটি ফ্রম মিসেলস’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে পাবলিক হেলথ বিভাগ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স ও প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন এবং সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা ভেঙে দিয়ে হাম সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা টিকাদানের কারণে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত। যারা আগে হাম আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও সাধারণত নিরাপদ, তারা প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। টিকা নেওয়া মায়েরা তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থানান্তর করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী জানান, ১২ মাসের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা এর চেয়ে বেশি বয়সের শিশু, টিকা না নেওয়া ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তারাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, ১-৫ বছরের শিশুদের জন্য হাম বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এই বয়সের শিশুরা গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিতে থাকে, যেখানে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে থাকে বড় শিশুরা।

তিনি বলেন, হাম ভাইরাস কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, বিশেষ করে গণপরিবহন, শ্রেণিকক্ষ, মিলনায়তন বা বিমানবন্দরের মতো বদ্ধ স্থানে। তবে অতীতের ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির কারণে চলতি বছর এই প্রাদুর্ভাব মহামারিতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা কম।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য কিছু ভাইরাসের মতো হাম প্রাণীর দেহে সক্রিয় থাকে না। শিশুদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী।

আইইডিসিআর ও ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, কোনও এলাকায় এক মাসে তিন বা তার বেশি হাম আক্রান্তের ঘটনা ঘটলে সেটিকে সন্দেহভাজন প্রাদুর্ভাব ধরা হয়, আর একই সময়ে দুইটি নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেলে সেটি নিশ্চিত প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ তাওফিক বলেন, উপসর্গের দিক থেকে হাম অনেকটা সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগের মতো জ্বর, সর্দি ও শরীরে কাশি দেখা যায়। তবে কেবল কাশি থাকলে এবং জ্বর বা সর্দি না থাকলে সেটি হাম নাও হতে পারে। হাম হলে সাধারণত জ্বর কম মাত্রায় শুরু হয়ে ১০১-১০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ে এবং তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হয়।

আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বক্তব্য দেন আইইউবির স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের ডিন ড. কামরান উল বাসেত এবং স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন ড. কে আয়াজ রব্বানী।

Advertisements