বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

দ্য ভেজিটেরিয়ান: এক নারীর নিরব প্রতিবাদের গল্প

The vegetarian

দ্য ভেজিটেরিয়ান: এক নারীর নিরব প্রতিবাদের গল্প

একটা সাধারণ পরিবার যেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুবই সাধারণ এক জীবন যাপন করে। সেখানে হঠাতই স্ত্রীর একটি সিদ্ধান্ত অসাধারণ এক বাঁকের মুখোমুখি করে পরিবারটিকে। এতে তাদের জীবনের পরিচিত পরিসর আমূল বদলে যায়। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইয়ং-হে। ২০২৪-এ সাহিত্যে নোবেল জয়ী দক্ষিণ কোরিয়ার কথাসাহিত্যিক হান কাংয়ের দ্য ভেজিটেরিয়ান ‍উপন্যাসটি ইয়ং-হের স্বামীর এই আপাত সাধারণ কিন্তু বিস্ময়কররকম সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে শুরু হয়। এই বলে যে, “আমার স্ত্রী নিরামিষাশী হবার আগ পর্যন্ত, বরাবরই আমি তাকে অতি সাদামাটা সাধারণ একজন নারী হিসেবেই দেখে এসেছি।” চামড়াহীন বাস্তবতায় প্রবেশ যাকে বলে, এ যেন তাই। কোনো ভণিতা নেই। হান কাং উপন্যাসটিতে এরপর পরতে পরতে সমাজ ও পরিবারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে থাকেন।

হান কাং-এর নোবেল পুরস্কার প্রদানের কারণ হিসেবে নোবেল কমিটি বলেছিল, তার গদ্য কাব্যিক। নোবেল কমিটি তাদের ওয়েবসাইটে তার কারণও জানিয়েছে, হান কাং মূলত ১৯৯৩ সালে একজন কবি হিসেবেই সাহিত্যে তার যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৯৫ সালে ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি কথাসাহিত্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর সাক্ষ্যও দ্য ভেজিটেরিয়ান বইটিতে রয়েছে। তার কাব্যিক সত্তা এখানে বিস্ময়ের ডানা মেলেছে গদ্যে। দ্য ভেজিটেরিয়ান প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৭-এ, কোরিয়ান ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন দেবোরা স্মিথ। এই বইয়ের জন্য হান কাং আন্তর্জাতিক ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিলেন ২০১৬ সালে। এই বইটি তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত। কারণ নারীদের জীবন যাপনকে পুরুষবাদী সমাজকর্তৃক নিয়ন্ত্রিত করার প্রতিবাদ হিসেবে বইটির ভূমিকা অনন্য। পাঠকেরা যদি হান কাং-এর যেকোনো একটি বই দিয়ে তাকে পাঠ করা শুরু করতে চান তাহলে এই বইটি দিয়েই করা উচিত। কেননা বইটিতে কাং-এর সাহিত্যশৈলীর অভিনবত্বের প্রায় সবকিছুই দ্য ভেজেরেরিয়ান-এ বর্তমান।

দ্য ভেজেটেরিয়ান উপন্যাসটির কাহিনি এরকম, ইয়ং-হে একদিন হঠাত করেই ভেজেটেরিয়ান হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মাংস খাওয়া বাদ দিয়ে দেয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে সে একটি গাছ হতে চায় বলে জানায়। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে সে একটি দুঃস্বপ্নে কথা বলে। কিন্তু তার স্বামী বা পরিবারের কেউ তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারে না। কিন্তু সে অনড়। তার সংসার ভেঙে যেতে থাকে। তবু সে কোন অজানা ক্ষমতাবলে তার অবস্থান থেকে সরে না। নিজের জন্য কোনো লক্ষ্য স্থির করা যে কতটা শক্তি দাবী করে, আর সেই লক্ষ্যকে আকড়ে থাকার জন্য যে কী পরিমাণ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সমাজ, আপনজনদের শৃঙ্খলা একে একে উন্মোচিত হতে থাকে, হান কাং এই অসাধারণভাবে সাধারণ উপন্যাসটিতে তা আমাদের সামনে উপস্থাপিত করেন।

উপন্যাসটিতে তিনটি ভাগ রয়েছে, ‘নিরামিষাশী’ ‘মঙ্গোলীয় চিহ্ন’ ও ‘জ্বলন্ত বৃক্ষেরা’। একজন অসফল শিল্পী যে আবার ইয়ং-হের ভগ্নিপতি, তার ভেতর ইয়ংয়ের প্রতি অদম্য কামনা কাজ করে। অন্যজন ইন-হে ইয়ং-হের বড় বোন। এক কসমেটিক স্টোরের ম্যানেজার। তাদের জীবনও তুলে ধরেছেন হান কাং।

উপন্যাসিটির কাহিনী এরকম, নামহীন কথক পুরো উপন্যাসজুড়ে তার ছোট বোনের মৃত্যুর কারণে তার দুঃখের কথা বর্ণনা করে। যে বোন জন্মের পর মাত্র দুই ঘন্টা বেঁচে ছিল। বইটি ভিন্ন শৈলীতে লেখা। বইয়ের নামের মধ্যে থাকা সাদা রং হচ্ছে এই নামহীন কথকের শোক, ক্ষতি, বেদনা আর মানুষের ভঙ্গুর প্রেরণার প্রতীক। বইটিকে আত্মজৈবনিক ঘরানার মনে করা হয়।

একটা সাধারণ পরিবার যেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুবই সাধারণ এক জীবন যাপন করে। সেখানে হঠাতই স্ত্রীর একটি সিদ্ধান্ত অসাধারণ এক বাঁকের মুখোমুখি করে পরিবারটিকে। এতে তাদের জীবনের পরিচিত পরিসর আমূল বদলে যায়। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইয়ং-হে। ২০২৪-এ সাহিত্যে নোবেল জয়ী দক্ষিণ কোরিয়ার কথাসাহিত্যিক হান কাংয়ের দ্য ভেজিটেরিয়ান ‍উপন্যাসটি ইয়ং-হের স্বামীর এই আপাত সাধারণ কিন্তু বিস্ময়কররকম সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে শুরু হয়। এই বলে যে, “আমার স্ত্রী নিরামিষাশী হবার আগ পর্যন্ত, বরাবরই আমি তাকে অতি সাদামাটা সাধারণ একজন নারী হিসেবেই দেখে এসেছি।” চামড়াহীন বাস্তবতায় প্রবেশ যাকে বলে, এ যেন তাই। কোনো ভণিতা নেই। হান কাং উপন্যাসটিতে এরপর পরতে পরতে সমাজ ও পরিবারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে থাকেন।

হান কাং-এর নোবেল পুরস্কার প্রদানের কারণ হিসেবে নোবেল কমিটি বলেছিল, তার গদ্য কাব্যিক। নোবেল কমিটি তাদের ওয়েবসাইটে তার কারণও জানিয়েছে, হান কাং মূলত ১৯৯৩ সালে একজন কবি হিসেবেই সাহিত্যে তার যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৯৫ সালে ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি কথাসাহিত্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর সাক্ষ্যও দ্য ভেজিটেরিয়ান বইটিতে রয়েছে। তার কাব্যিক সত্তা এখানে বিস্ময়ের ডানা মেলেছে গদ্যে। দ্য ভেজিটেরিয়ান প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৭-এ, কোরিয়ান ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন দেবোরা স্মিথ। এই বইয়ের জন্য হান কাং আন্তর্জাতিক ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছিলেন ২০১৬ সালে। এই বইটি তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত। কারণ নারীদের জীবন যাপনকে পুরুষবাদী সমাজকর্তৃক নিয়ন্ত্রিত করার প্রতিবাদ হিসেবে বইটির ভূমিকা অনন্য। পাঠকেরা যদি হান কাং-এর যেকোনো একটি বই দিয়ে তাকে পাঠ করা শুরু করতে চান তাহলে এই বইটি দিয়েই করা উচিত। কেননা বইটিতে কাং-এর সাহিত্যশৈলীর অভিনবত্বের প্রায় সবকিছুই দ্য ভেজেরেরিয়ান-এ বর্তমান।

দ্য ভেজেটেরিয়ান উপন্যাসটির কাহিনি এরকম, ইয়ং-হে একদিন হঠাত করেই ভেজেটেরিয়ান হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মাংস খাওয়া বাদ দিয়ে দেয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে সে একটি গাছ হতে চায় বলে জানায়। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে সে একটি দুঃস্বপ্নে কথা বলে। কিন্তু তার স্বামী বা পরিবারের কেউ তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারে না। কিন্তু সে অনড়। তার সংসার ভেঙে যেতে থাকে। তবু সে কোন অজানা ক্ষমতাবলে তার অবস্থান থেকে সরে না। নিজের জন্য কোনো লক্ষ্য স্থির করা যে কতটা শক্তি দাবী করে, আর সেই লক্ষ্যকে আকড়ে থাকার জন্য যে কী পরিমাণ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সমাজ, আপনজনদের শৃঙ্খলা একে একে উন্মোচিত হতে থাকে, হান কাং এই অসাধারণভাবে সাধারণ উপন্যাসটিতে তা আমাদের সামনে উপস্থাপিত করেন।

উপন্যাসটিতে তিনটি ভাগ রয়েছে, ‘নিরামিষাশী’ ‘মঙ্গোলীয় চিহ্ন’ ও ‘জ্বলন্ত বৃক্ষেরা’। একজন অসফল শিল্পী যে আবার ইয়ং-হের ভগ্নিপতি, তার ভেতর ইয়ংয়ের প্রতি অদম্য কামনা কাজ করে। অন্যজন ইন-হে ইয়ং-হের বড় বোন। এক কসমেটিক স্টোরের ম্যানেজার। তাদের জীবনও তুলে ধরেছেন হান কাং।

উপন্যাসিটির কাহিনী এরকম, নামহীন কথক পুরো উপন্যাসজুড়ে তার ছোট বোনের মৃত্যুর কারণে তার দুঃখের কথা বর্ণনা করে। যে বোন জন্মের পর মাত্র দুই ঘন্টা বেঁচে ছিল। বইটি ভিন্ন শৈলীতে লেখা। বইয়ের নামের মধ্যে থাকা সাদা রং হচ্ছে এই নামহীন কথকের শোক, ক্ষতি, বেদনা আর মানুষের ভঙ্গুর প্রেরণার প্রতীক। বইটিকে আত্মজৈবনিক ঘরানার মনে করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ানারীনোবেল জয়ীপ্রতিবাদবই