শিশুর সুস্থ বিকাশে ‘ভিটামিন ডি’ এর গুরুত্ব

শুধু হাড় মজবুত করতেই নয়, শিশুর সার্বিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভিটামিন ডি। এমনটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মের পর প্রথম ১ হাজার দিন, অর্থাৎ প্রায় তিন বছর পর্যন্ত শিশুর সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি গঠনে এই ‘সানশাইন ভিটামিন’ অপরিহার্য।
১ হাজার জিন নিয়ন্ত্রণে ভিটামিন ডি
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের এক হাজারেরও বেশি জিন সরাসরি ভিটামিন ডি রিসেপ্টরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে এটি কেবল একটি পুষ্টি উপাদান নয়, বরং শিশুর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রোগ্রামিং ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করে।গর্ভাবস্থায় মা যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করেন, তবে নবজাতকের হাড়ের খনিজ ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এই ইতিবাচক প্রভাব শৈশব পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এক বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জন্মকালীন ওজনের সঙ্গে সম্পর্ক
মায়ের শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি থাকলে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এতে কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
জেনেটিক ও এপিজেনেটিক প্রভাব
গবেষকরা বলছেন, ভিটামিন ডি প্লাসেন্টার জিনের কার্যক্রম এবং শিশুর এপিজেনেটিক পরিবর্তনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
নতুন গাইডলাইন কী বলছে
Endocrine Society-এর ২০২৪ সালের গাইডলাইন অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের প্রতিদিন প্রায় ২,৫০০ আইইউ ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সবার শরীর এক রকম নয়। তাই ‘প্রিসিশন নিউট্রিশন’ বা ব্যক্তিভিত্তিক পুষ্টি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।দবিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গর্ভাবস্থা থেকেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি নিশ্চিত করা জরুরি। রিকেটস প্রতিরোধের পাশাপাশি এটি শিশুর সামগ্রিক শারীরিক, মানসিক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



