বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
নারী

পাকবাহিনীর মাইন বিস্ফোরণে পা হারান মৃদুল রাণী, এখনো পান নি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

mridul-freedom-fighter-deshkal-news-1775001833

ভারত সীমান্তবর্তী পরশুরামের বাউরপাথর গ্রামের দাড়িকানাথ চৌধুরীর মেয়ে মৃদুল রাণী—তখন তিনি ছিলেন এক কিশোরী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর পুঁতে রাখা একটি মাইনের বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে পা হারান । স্বাধীনতার এত বছর পরও তিনি পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

মৃদুল রাণীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৪ আগস্ট বিলোনিয়ার আমজাদনগরে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি শক্ত ঘাঁটি ছিল। বাবার সহায়তায় সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করে দিতেন কিশোরী মৃদুল রাণী। সেদিন সকালে বাড়ি থেকে আমজাদনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে পাকিস্তানি বাহিনীর পুঁতে রাখা একটি মাইনের ওপর পা পড়লে বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের দুই-তৃতীয়াংশ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই তার জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় ‘পঙ্গু’ শব্দটি। পরে ভারতের বিলোনিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধাহত মৃদুল রাণীর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তিনি পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তার স্বামী আনন্দ রায় শারীরিকভাবে অসুস্থ। বাড়ির পাশে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে সামান্য আয়ে কোনোমতে চলে তাদের সংসার। দুই ছেলের মধ্যে একজন ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছেন এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। অপর ছেলে অনিক রায় (২৪) বাবাকে কাজে সহায়তা করে পরিবারের পাশে রয়েছেন।

কিছুটা আক্ষেপের সুরে মৃদুল রানী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পা হারানোর পর কেউ বিয়ে করতে চায়নি। ৪১ বছর পর বিয়ে হয়। অনেকের কাছে সহযোগিতা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য গিয়েছি, কেউই সহযোগিতা করেনি। কত মানুষ কত কথা বলেছে, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।

এ ব্যাপারে ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু নাছের চৌধুরী বলেন, মৃদুল রাণীর বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছি। তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কিছু প্রামাণ্য নথি বা কাগজপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, মৃদুল রাণীর আহত হওয়ার সময়কার কোনো চিকিৎসা সনদ, হাসপাতালের কাগজপত্র বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি যদি সংরক্ষিত থেকে থাকে, তাহলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

পাকবাহিনীমাইন বিস্ফোরণরাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি