অতিরিক্ত নেগেটিভ কনটেন্ট খোঁজায় বাড়ছে মানসিক চাপ

অনলাইনে নিয়মিত নেতিবাচক কনটেন্ট দেখা বা খোঁজার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ারে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হতাশাজনক, আক্রমণাত্মক বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্টে সময় ব্যয় করেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
গবেষণাটিতে অনলাইনে কত সময় ব্যয় করা হচ্ছে, সেটিকে মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়নি। বরং ব্যবহারকারীরা কী ধরনের কনটেন্টে যুক্ত হচ্ছেন, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, নেতিবাচক কনটেন্টে বারবার সম্পৃক্ততা একটি ‘ফিডব্যাক লুপ’ তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে মানসিক অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়। এতে ব্যবহারকারীরা এমন এক চক্রে আটকে পড়েন, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায়। অর্থাৎ অনলাইন পরিবেশ সরাসরি মানুষের মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলছে।
এই গবেষণার ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম ও কনটেন্ট বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিভাজনমূলক বা উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট বেশি ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যবহারকারীদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমাধান হিসেবে গবেষকেরা কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা, অ্যালগরিদমের নকশায় পরিবর্তন আনা এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদেরও সচেতনভাবে ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর কনটেন্ট বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।



