নেপালের বন্যায় নিখোঁজ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, বাড়ছে উদ্বেগ

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে এবার উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার খবর। দেশটির শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে দুই শতাধিক স্কুলশিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী পানির স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি জেলার অন্তত ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে নয়টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আর সাতটি স্কুল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব বলছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার বিভিন্ন স্কুলের। বন্যার তীব্রতায় এসব এলাকার কোথাও স্কুল ভবন পানিতে ডুবে গেছে, আবার কোথাও ভূমিধস ও মাটিচাপায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি স্কুলে মোট ২ হাজার ৪২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। হঠাৎ বন্যা ও পানির প্রবল স্রোতে অনেক শিক্ষার্থী নিরাপদ স্থানে যেতে পারেনি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে একটি স্কুলের ঘটনায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাসও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বাসটিতে থাকা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে কারও কারও এখনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকা, প্রবল পানির স্রোত এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

বন্যায় শুধু মানুষের জীবনই বিপর্যস্ত হয়নি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের শিক্ষা অবকাঠামোও। স্কুল ভবন ধ্বংস হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ভয়াবহতায় নেপালের বহু পরিবার এখন একদিকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে, অন্যদিকে প্রিয়জনের খোঁজে অপেক্ষা করছে। আর সেই তালিকায় রয়েছে স্কুলপড়ুয়া অসংখ্য শিশুর নাম—যাদের ফিরে আসার আশায় দিন গুনছেন তাদের পরিবার ও স্বজনেরা।



