বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য উদ্যোগ: ১৫ মিনিট বিরতি, ২ ঘণ্টা ব্যায়াম

1772958357842_731

চীনের সব প্রাদেশিক অঞ্চলে প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি ক্লাসের মাঝে ১৫ মিনিট বিরতি এবং প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা শারীরিক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই চিনপেং। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, চীনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো শারীরিক স্বাস্থ্যের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মায়োপিয়া বা দৃষ্টিক্ষীণতার হারও টানা চার বছর ধরে কমছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা আরও উন্নত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় শারীরিক শিক্ষা (পিই) ক্লাস চালু করা এবং বাস্কেটবল, ফুটবল ও ভলিবল খেলায় আন্তস্কুল প্রতিযোগিতা বাড়ানো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজেদের আনুষ্ঠানিক উইচ্যাটে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্কুলগুলোকে ঘন ঘন পরীক্ষা আয়োজন করা এবং ‘শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনার বোঝা’ বাড়ানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা দেশের সেই চিরাচরিত মনোভাব থেকে সরে আসছে, যেখানে শিশুদের কঠোর অধ্যয়ন করে ভালো ফলাফল করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চীনের স্কুলগুলোতে বাড়ির কাজের অতিরিক্ত চাপ একটি সাধারণ ঘটনা, যার ফলে ঘুমের অভাব এবং উদ্বেগ ও নানা বিষণ্ণতা বৃদ্ধি পায়।
গত বছরের নভেম্বরে চীন জানিয়েছিল, স্কুলগুলোকে অবশ্যই বাড়ির কাজের মোট পরিমাণ ‘কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করতে হবে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন স্কুলে ‘অন্তত’ দুই ঘণ্টা শরীরচর্চা কার্যকলাপের সুযোগ দিতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানপদ্ধতি গ্রহণ করা বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আগেভাগে পড়াতে পারবে না কিন্ডারগার্টেনগুলো।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রী নির্বাচনের উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের পরীক্ষা আয়োজন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়াদের নিয়ে নানা প্রচারণায় এবং শিক্ষকদের পুরস্কৃত বা শাস্তি দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়গুলোকে কোনোভাবেই ছাত্রছাত্রীদের বিরতির সময়ে হস্তক্ষেপ করা বা বিরতির সময় তাদের শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করতে নিষেধ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

চীনশারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যশিক্ষার্থী