বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
নারী

স্যাবিন রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন সেঁজুতি সাহা

1774438944_5fa6b26c3e75437757f3

বিজ্ঞানের দুনিয়ায় বাংলাদেশের নাম আবারও উজ্জ্বল হলো! চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ স্যাবিন রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। সবচেয়ে গর্বের বিষয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি এই সম্মানজনক পুরস্কারটি পেলেন!

২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে তিন বিজ্ঞানীকে সম্মাননা জানানো হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট প্রতিবছর এই পুরস্কারটি দিয়ে থাকে। লিঙ্গ, ভৌগোলিক অবস্থান বা কাজের ক্ষেত্রের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বস্বাস্থ্যে মানুষের নিঃস্বার্থ অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়াই এই পুরস্কারের মূল লক্ষ্য।

টিকার মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই বিজ্ঞানীরা। করোনা মহামারি মোকাবিলা থেকে শুরু করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁদের অসামান্য ভূমিকা। কোভিড-১৯ মহামারির গতিপথ বদলে দেওয়া ও বিশ্বজুড়ে নতুন ধরনের ওষুধের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজি।

বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা পাচ্ছেন ‘২০২৬ রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’। জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন তিনি, যা লাখো শিশুকে সুরক্ষায় সহায়তা দিচ্ছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশে যে বিশাল টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন হয়েছিল, তার পেছনে জিনোমিক ডেটা বা তথ্য দিয়ে সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক প্রমাণটি তৈরি করেছিলেন ড. সেঁজুতি। তাঁর এই কাজের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যেই দেশের ৪ কোটিরও বেশি শিশুকে এই টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে! পাশাপাশি তিনি দেশে একটি বিশ্বমানের জিনোমিক ল্যাব তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর এই ল্যাবে ক্লেবসিয়েলা এবং আরএসভির মতো ভয়ংকর সব প্যাথোজেনের জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো প্রাদুর্ভাব দ্রুত শনাক্ত করতে এবং ভ্যাকসিন তৈরিতে সাহায্য করবে।

এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত ড. সেঁজুতি সাহা বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার কাছে ভীষণ অর্থবহ। কারণ এটি বাংলাদেশের একটি অসাধারণ কমিউনিটির বছরের পর বছর ধরে করা পরিশ্রমের ফল। এটি প্রমাণ করে, মানুষ একসঙ্গে সমস্যা সমাধানের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই বিজ্ঞান চর্চা বেড়ে উঠতে পারে!’

চলতি বছর ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই তিন গুণী বিজ্ঞানীকে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। পুরো অনুষ্ঠানটি অনলাইনে সরাসরি দেখানো হবে।

২০২৬চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনড. সেঁজুতি সাহাযুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসসেঁজুতি সাহাস্যাবিন রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড