বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
ফ্যাশন

ঈদের সাজে নতুন ট্রেন্ড: কাশ্মীরি গয়নার রাজকীয় ছোঁয়া

ঈদের সাজে নতুন ট্রেন্ড: কাশ্মীরি গয়নার রাজকীয় ছোঁয়া

ঈদুল ফিতর এলেই সাজগোজে আসে নতুনত্বের ছোঁয়া। প্রতি বছরই ফ্যাশনপ্রেমীরা খোঁজেন ভিন্ন কিছু, আর এবার সেই ট্রেন্ডের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে কাশ্মীরি গয়না—বিশেষ করে ঝুমকা দুল আর ঘুঙুর চুড়ি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে শপিং মল—সব জায়গাতেই এখন এই অলংকারের দাপট।

ঢাকার গাউছিয়া মার্কেট কিংবা বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স—সবখানেই ঝুনঝুন শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে দোকানপাট। শুধু অফলাইন নয়, অনলাইন শপগুলোতেও কাশ্মীরি গয়নার চাহিদা তুঙ্গে।

ঐতিহ্যের ছোঁয়া: কাশ্মীরি ঝুমকার গল্প
এই গয়নাগুলো কাশ্মীরের ঐতিহ্যের কথা বলে। কাশ্মীরি কবিদের কবিতায় অলংকার, বিশেষ করে কানের দুল বা ঝুমকার বর্ণনা প্রায়ই উপমা হিসেবে আসে। কবিতার পঙ্‌ক্তিতে কাশ্মীরের স্বর্ণকারদের নিপুণ কাজ এবং সেই অলংকারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিরহ ও ভালোবাসার কথা প্রায়ই ফুটে ওঠে। বেশির ভাগ দুলেই আছে জাফরান ফুল বা টিউলিপের নকশা।

এ ছাড়া অর্ধচাঁদ, তারা, পাঁচ পাপড়ির ফুল ও পাখি কিংবা ময়ূর দেখা যায়। দুলগুলোয় ঝুলে থাকা ঘুঙুর শব্দ কাশ্মীরের ঝরনা আর নদীর প্রবাহের কথা মনে করিয়ে দেয়। যে দুলগুলোর কথা বলা হচ্ছে, কাশ্মীরি ভাষায় সেগুলোকে বলে দেহুর। এর অর্থ ঝুমকা। কাশ্মীরের নারী, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার প্রতীক এগুলো। কাশ্মীরি ঐতিহ্য অনুযায়ী দেহুর তৈরি হয় সোনা দিয়ে। এগুলো কানের লতির সঙ্গে একটি সুতা বা সোনার চেইন দিয়ে বাঁধা থাকে। এটি বিবাহিত নারীদের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে পিতলের ঘুঙুর দুল।

কীভাবে সাজবেন কাশ্মীরি গয়নায়
কাশ্মীরি ঝুমকার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর লম্বা চেইন ডিজাইন, যা কানের পাশ দিয়ে নেমে এসে এক রাজকীয় আবহ তৈরি করে।এগুলো মূলত সিল্কের শাড়ি, আনারকলি সালোয়ার-কামিজ বা লেহেঙ্গার সঙ্গে ভালো মানায়। কানে চেইনের ডিজাইনটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে চুল টেনে পেছনে খোঁপা বা উঁচু পনিটেইল করে পরতে পারেন।

যদি শাড়ির সঙ্গে এগুলো পরেন, তাহলে সঙ্গে গলায় হালকা গয়না পরা যেতে পারে। ভারী ঝুমকা পরলে গলায় কোনো গয়না না পরা বা খুব সাধারণ চেইন পরা ভালো, যাতে কানের দুলগুলো প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকবে। ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ড্রেস বা কুর্তার সঙ্গে ছোট বা অক্সিডাইজড মেটালের কাশ্মীরি ঝুমকা পরে ক্যাজুয়াল কিন্তু স্টাইলিশ লুক তৈরি করতে পারেন।

কাশ্মীরি ঘুঙুর চুড়ি: শব্দে শব্দে সাজ
এবারের ঈদে কাচের চুড়ি ভিন্ন রূপে ফিরে এসেছে। সেখানে ফুটে উঠেছে বিভিন্ন নকশা। সোনালি রঙের গ্লিটার দিয়ে নকশা করা চুড়ির নাম চুমকি। আবার ছোট ছোট চাঁদ আর পাতা দিয়ে নকশা করা হয়েছে খাঁজকাটা কাচের চুড়ির ওপর—এর নাম চান চুড়ি। ট্রেন্ড হলো এই চুড়িগুলো পরতে হবে কাশ্মীরি ঘুঙুর চুড়ির সঙ্গে। সোনালি ও রুপালি রঙের এই ধাতব চুড়িগুলোয় নির্দিষ্ট প্যাটার্নে বসানো আছে ঝুনঝুনি। ঘুঙুর বা ঝুনঝুনির শব্দ ভালো না লাগলে সেগুলো ছাড়াও চুড়ি পাওয়া যাবে।

কোথায় পাবেন ও দাম
ঢাকার বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের মতো বড় মার্কেট থেকে শুরু করে গাউছিয়ার অলংকারের দোকানে এগুলো পেয়ে যাবেন। অক্সিডাইজের গয়না ছাপিয়ে বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই দুল। বাজারে এগুলোর দাম শুরু হয়েছে ৭০০ টাকা থেকে। এর ভারিক্কি আর লেয়ারের ওপরে ভিত্তি করে দাম পড়বে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। অনলাইনের বিভিন্ন পেজেও একই রকম দাম। তবে দেখে নেওয়ার সুযোগ থাকলে কোয়ালিটি বুঝে নেওয়া ভালো।

বাজারে এখন দুই ধরনের ঘুঙুর চুড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এর একটি রুপালি রঙের ধাতব কাশ্মীরি চুড়ি। এগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৭৫০ টাকার মধ্যে। কাশ্মীরি ঘুঙুর চুড়ি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো চুড়িও আছে, সেগুলোর দাম কম। ঢাকার গাউছিয়ার মতো বাজারে সেগুলো পাওয়া যাবে ২০০ টাকার মধ্যে। নকশা করা কাচের চুড়িগুলো নকশাভেদে ২০০-৫০০ টাকা ডজন হিসেবে বিক্রি হচ্ছে অনলাইন ও বাজার—দুই জায়গাতেই।

যত্নআত্তি
দোকানিদের দাবি, এই দুলগুলোর রং উঠবে না। তবে রাখতে হবে খুব সাবধানে তুলা কিংবা টিস্যু দিয়ে পেঁচিয়ে বায়ুরোধী বাক্সে রাখলে এরা ভালো থাকবে। এই দুলগুলোর ওপরে সুগন্ধি স্প্রে করবেন না। আর অবশ্যই পানি থেকে দূরে রাখবেন।

এবারের ঈদে কাশ্মীরি গয়না শুধু ট্রেন্ড নয়, এটি এক ধরনের স্টেটমেন্ট। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে তৈরি এই অলংকার আপনার ঈদের সাজে এনে দিতে পারে ভিন্ন মাত্রা। তাই যদি এবারের ঈদে একটু রাজকীয়, একটু ভিন্ন লুক চান—কাশ্মীরি ঝুমকা আর ঘুঙুর চুড়ি হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ।

ঈদঈদের সাজ