বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে এখনই যা করা জরুরি

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে এখনই যা করা জরুরি

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে যাত্রীচাপ সামাল দিতে ছুটি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ উদযাপিত হতে পারে ঈদুল ফিতর। এর আগে দুই দিন সরকারি ছুটি এবং ১৭ মার্চ শবেকদর। মাঝের ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করা হলে টানা চার দিনের অবকাশ মিলবে। এ চিন্তায় ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ধাপে ধাপে মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারলে সড়কে চাপ কমবে।

তবে শুধু ছুটি বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না—এমন আশঙ্কাও আছে। সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য, প্রবেশপথে দখলদারিত্ব, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং টোলপ্লাজায় ধীরগতির কারণে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।

ছুটিই কি একমাত্র সমাধান?

সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, অনিবন্ধিত ও অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কের বাজার উচ্ছেদ এবং যান চলাচল সচল রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ১৮ মার্চ ছুটি পেলে ঈদযাত্রা গত বছরের মতো নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছেন তিনি।

গত বছর ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগে টানা চার দিনের ছুটি থাকায় যাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু ৭ জুন ঈদুল আজহার সময় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিপুল যাত্রীচাপে ভয়াবহ যানজট হয়। যমুনা সেতু পার হতে ১২–১৩ ঘণ্টা লেগেছিল।

এবার রমজানের শুরু থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেকে পরিবার আগেই গ্রামে পাঠাতে পারেন—এতে চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) ও হাইওয়ে পুলিশের মতে, দীর্ঘ ছুটি না হলে দুর্ভোগ এড়ানো কঠিন।

Advertisements

কোথায় কোথায় ভোগান্তির শঙ্কা

সওজ বলছে, দেশের ৭৫ শতাংশ সড়ক ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু ঢাকা ছাড়তেই ভোগান্তি হতে পারে গাবতলী, সায়েদবাদ, টঙ্গী ও হানিফ ফ্লাইওভারে। গতকাল শুক্রবার গাবতলী, সায়েদাবাদ ও টঙ্গী এলাকায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রবেশপথে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকের ভিড়। এতে বাসের গতি আটকে যাচ্ছে।

গত বছরের দুই ঈদেই ভুগিয়েছে হানিফ ফ্লাইওভার। এ ফ্লাইওভার হয়ে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে ভোগান্তিতে পড়েন। এবারও একই শঙ্কা রয়েছে।

গাজীপুরের চন্দ্রা ও চৌরাস্তা এলাকায় ফিটনেসবিহীন যান ও লোকাল বাস মহাসড়কে উঠলে আগের মতো অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেন চালু হলেও সেতুতে গাড়ি বিকল হলে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সংযোগস্থলেও ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। সাসেক প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নকাজ চললেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ।

উন্নয়নকাজ, দখল ও টোল—তিন সংকট

ঢাকা-সিলেট ও আশুগঞ্জ-সরাইল-বাহ্মণবাড়িয়া-আখাউড়া মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলমান থাকায় নরসিংদী ও আশুগঞ্জ এলাকায় ধীরগতি তৈরি হচ্ছে। একইভাবে কাঁচপুর থেকে মেঘনা পর্যন্ত অংশে শিল্পকারখানা ও ঘনবসতির কারণে যানজটের ঝুঁকি রয়েছে।

মেঘনা ও গোমতী টোলপ্লাজায় দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ার শঙ্কা আছে। যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক সময়ে দিনে প্রায় ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদে তা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত বছর এক দিনে ৬৪ হাজার যানবাহন পার হয়েছিল। দুর্ঘটনা ও টোল জটের কারণে ১৫–১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। এবার ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

কী করতে হবে এখনই

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মতে, নির্বাচনের সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী ঈদে ঢাকা ছাড়বেন। তাই—

  • ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ যান ঈদের সময় মহাসড়ক থেকে সরাতে হবে।
  • সড়কের মোড়ে বাজার ও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে হবে।
  • ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি দরকার।
  • শিল্পাঞ্চলে ধাপে ধাপে ছুটি নিশ্চিত করতে হবে।
  • টোলপ্লাজায় ই-টোল ও দ্রুত নিষ্পত্তি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চন্দ্রা এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে এবং বিকল্প বাইপাস ব্যবস্থাও করা হবে। সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ দখল ও উল্টো পথে চলাচল বন্ধ না হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে কেবল ছুটি বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। সড়ক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ, অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত পরিকল্পনাই পারে যাত্রীদের স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে যেতে পারে সড়কের দীর্ঘ যানজটে।

Advertisements