বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

হৃদ্‌রোগ থাকলে যেভাবে নিরাপদে রোজা রাখবেন

হৃদ্‌রোগ থাকলে যেভাবে নিরাপদে রোজা রাখবেন

হৃদ্‌যন্ত্র বা রক্তসঞ্চালন–সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগলেও অনেকেই সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। তবে রোজা রাখার কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ইসলামি বিধান অনুযায়ী রোজা না রাখারও সুযোগ রয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হলে, হার্টে স্টেন্ট বসানো বা বাইপাস সার্জারি হয়ে থাকলে, গুরুতর হার্ট ফেইলিউর বা জটিল হৃদ্‌রোগ থাকলে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। অনেক চিকিৎসক রমজানের আগে কয়েক দিন পরীক্ষামূলকভাবে অল্প সময় রোজা রেখে শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝার পরামর্শ দেন।

রোজায় খাদ্যাভ্যাস: কী খাবেন, কী এড়াবেন

রোজায় সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। সাহ্‌রিতে এমন খাবার বেছে নিন, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাবে এবং রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখবে। যেমন—লাল চালের ভাত, আটা বা লাল আটার রুটি, শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ বা কম চর্বিযুক্ত প্রোটিন।

ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করা ভালো। খেজুর দ্রুত শক্তি দেয় এবং এতে ফাইবারও আছে। মূল খাবারে রাখুন শাকসবজি, ফল ও লো-ফ্যাট প্রোটিন (মাছ, মুরগি, ডাল)। ভাজাপোড়া কমিয়ে সেদ্ধ, গ্রিল বা বেক করা খাবার বেছে নেওয়া উচিত।

অতিভোজন নয়

ইফতারে অতিভোজন হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে। ধীরে খান, পরিমিত পরিমাণে খান। অতিরিক্ত তেল-ঝাল, মিষ্টি ও ভাজাপোড়া সীমিত রাখুন।

পানিশূন্যতা এড়াতে যা করবেন

ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন। চা, কফি বা চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে সাধারণ পানি উত্তম। গরমে কাজ করলে বা বেশি ঘাম হলে পানির পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। লবণাক্ত খাবার কম খান—এগুলো পিপাসা বাড়ায় এবং রক্তচাপের জন্য ক্ষতিকর।

ওষুধের সময় পরিবর্তন করবেন

হৃদ্‌রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সেবন অত্যন্ত জরুরি। রোজার কারণে ওষুধের সময় পরিবর্তন করতে হলে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন না—চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অনেক ক্ষেত্রে দিনে একবার খাওয়ার ওষুধ ইফতারের পর নেওয়া যায়। তবে হার্ট ফেইলিউর, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌স্পন্দনের অনিয়মের ওষুধের সময় পরিবর্তনে জটিলতা বাড়তে পারে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

নিচের উপসর্গগুলোর কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন—

  • পা ফুলে যাওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা
  • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব
  • বুকে চাপ বা ব্যথা
  • বুক ধড়ফড়

রোজায় ব্যায়াম

হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। হাঁটা ও হালকা স্ট্রেচিং হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী। ইফতারের পর হালকা হাঁটা সবচেয়ে নিরাপদ। যাদের সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক বা বড় অপারেশন হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে রোজা ও ব্যায়াম—দুই ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

হৃদ্‌রোগ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা, সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে নিরাপদে রোজা রাখা সম্ভব। নিজের শরীরের সংকেত বুঝুন। প্রয়োজনে রোজা ভেঙে চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে সুস্থ থাকার সঠিক সিদ্ধান্ত।

Advertisements