বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

পা ফাটার সমস্যা ও সমাধান

111-7

পা ফাটা বা গোড়ালি ফাটা একটি প্রচলিত ত্বকের সমস্যা। সাধারণত ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে, নিয়মিত যত্নের অভাবে, দীর্ঘ সময় খালি পায়ে হাঁটা কিংবা অনুপযুক্ত জুতা ব্যবহারের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়। পা ফাটার অন্যতম কারণ হলো ত্বকের আর্দ্রতার অভাব। নিয়মিত পা পরিষ্কার না করা, অতিরিক্ত শক্ত সাবান ব্যবহার কিংবা পর্যাপ্ত পানি না পান করাও এ সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা সহজেই দূর করা যায়।

পা পরিষ্কার রাখা
সারা দিনে আমাদের পায়ে অনেক ধুলাবালু ও জীবাণু জমা হয়। দিন শেষে কুসুম গরম পানিতে পা ধুয়ে নিলে আরাম ও উপকার—দুই-ই পাওয়া যায়। এতে পায়ে জমে থাকা ধুলাময়লা ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন লবণ বা বেকিং সোডা মেশানো গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে পায়ের গোড়ালির মৃত ত্বক নরম হয়ে আসে। এতে স্ক্রাব করাও সহজ হয়।

পিউমিক স্টোন/ফুট স্ক্রাব ব্যাবহার
গোসলের সময় ঝামা বা ফুট স্ক্রাবার দিয়ে গোড়ালি হালকা ঘষে নিলে জমে থাকা রুক্ষ চামড়া উঠে যায়।

ময়েশ্চারাইজার ব্যাবহার
দিনে পায়ে অন্তত দুবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার উচিত। সেই সাথে রাতে ঘুমানোর আগেও পায়ে খুব ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। ভারী ময়েশ্চারাইজার বা পেট্রোলিয়াম জেলি শীতের জন্য আদর্শ। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পর পায়ে মোজা পরে নিলে আর্দ্রতা সারা রাত আটকে থাকবে। গোড়ালিও হবে নরম।

এছাড়াও কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি

১। কয়েক দিন পরপর রাতে ঘুমানোর আগে পেট্রোলিয়াম জেলি ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে পায়ে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। গোড়ালি নরম থাকবে।

২। পায়ের ত্বকের শুষ্কতা কমাতে নারকেল তেল কার্যকর। তেল হালকা গরম করে পা ও গোড়ালিতে মাখলে পা ফাটা দূর হবে।

৩। সামান্য মধু নিয়ে পায়ে ভালোভাবে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। পায়ের ত্বক নরম থাকবে।

৪। মাঝেমধ্যে পায়ে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। বেশ আরাম।

৫। সমপরিমাণ পেট্রোলিয়াম জেলি ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন লাগালে পা ফাটা অনেকটা কমে যাবে।

তবে গোড়ালি যদি এতটাই ফেটে যায় যে ব্যথা বা রক্তপাত হতে থাকে তাহলে যেকোনো ধরনের ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।এ সময় গোড়ালিতে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। তারপরও অবস্থার উন্নতি না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নারীপা