২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

‘মুক্তি পেতে পারেন’ সিরিয়ায় বন্দি সেই শামীমা বেগম

Untitled-2

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে বহুল আলোচিত শামীমা বেগমের মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি বর্তমানে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-রোজ আটক শিবিরে বন্দি রয়েছেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমের জন্ম যুক্তরাজ্যে। প্রায় এক দশক আগে তিনি লন্ডন থেকে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেন। পরে যুক্তরাজ্য সরকার তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করে। বাংলাদেশ সরকারও জানায়, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন।

শামীমা বেগম মুক্তি পেলে যুক্তরাজ্য সরকারকে আবারও বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। ২০১৯ সালে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের পর থেকেই আইনজীবীরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও মামলা চলমান রয়েছে। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, প্ররোচনার মাধ্যমে শামীমাকে সিরিয়ায় পাচার করা হয়েছিল, তাই নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তিসংগত নয়।

বর্তমানে সিরিয়ায় অস্থায়ী কারাগার ও বন্দিশিবিরগুলোতে ৯ হাজারের বেশি আইএস সদস্য এবং প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু আটক রয়েছে। এসব শিবিরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। তবে সাম্প্রতিক তীব্র সংঘর্ষের পর তারা বিভিন্ন স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সোমবার রাক্কা শহরের কাছের আল-আকতার, দেইর আল-জোর ও আল শাদ্দাদি এলাকার কারাগারগুলোর বাইরে তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসব কারাগারে কয়েক হাজার আইএস সদস্য বন্দি ছিল। ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-আকতার ও দেইর আল-জোর থেকে বেশ কয়েকজন জঙ্গি পালিয়ে গেছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে এসডিএফ জানিয়েছে, তারা আল শাদ্দাদি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যেখানে আইএস সংশ্লিষ্ট সহস্রাধিক ব্যক্তি বন্দি ছিল। কতজন পালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এসডিএফের আশঙ্কা, সরকারের এ ধরনের অভিযানের ফলে গুরুতর নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে এবং এতে সন্ত্রাসবাদের নতুন পথ খুলে যেতে পারে।

Advertisements
Advertisements