বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
নারী

ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবিতে ‘প্রশাসন পোড়াও বারবিকিউ’ কর্মসূচি

Untitled-3

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও তাদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান চেয়ে ‘প্রশাসন পোড়াও বারবিকিউ’ নামে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন একদল নারী শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তারা পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে জমা দেন।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা। পরে সেখানে কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী, শামসুন্নাহার হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) কানিজ কুররাতুল আইন, ডাকসুর সদস্য পদপ্রার্থী ইসরাত জাহান ইমুসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, তথাকথিত ‘অশালীনতা প্রতিরোধ’ ও ‘বিশেষ নিরাপত্তা’র অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বেআইনি ও বৈষম্যমূলক নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, রাত ১০টার পর মল চত্বরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রশ্ন, জেরা ও হয়রানির মুখে পড়তে হলেও একই স্থান ও সময়ে পুরুষ শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। এতে ক্যাম্পাসে স্পষ্টভাবে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠছে বলে তারা মনে করেন।

Advertisements

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ‘বিশেষ নিরাপত্তা’র নামে সব ধরনের বেআইনি ও বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, টিএসসিসহ পুরো ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ও ব্যবহারযোগ্য নারী টয়লেট নিশ্চিত করা, পরিচয়পত্র জমা সাপেক্ষে অনাবাসিক ও ভিন্ন হলের ছাত্রীদের যেকোনো হলে প্রবেশের অনুমতি, যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল পুনর্গঠন ও কার্যকর করা এবং আবাসিক ছাত্রীদের মা ও বোনকে শর্তসাপেক্ষে হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সন্ধ্যার পর চলাফেরার অধিকার কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি তাদের মৌলিক অধিকার। নিরাপত্তার নামে এই অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশে কোনো লিখিত বা অলিখিত নিষেধাজ্ঞা নেই। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালেও তার কাছে এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেনি।

তিনি টিএসসির নারী টয়লেটের অবস্থা খারাপ বলে স্বীকার করে জানান, দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনাবাসিক বা ভিন্ন হলের ছাত্রীদের হলে প্রবেশের বিষয়টি আগেই প্রশাসনিকভাবে আলোচিত ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটি কেন বাস্তবায়ন হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।

শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, মল চত্বর ও টিএসসির সময়সূচি প্রসঙ্গে প্রক্টর জানান, টিএসসিতে অনুষ্ঠান আয়োজনের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে এবং সেই সময়ের বাইরে এটি সবসময় উন্মুক্ত রাখা হবে না। তবে এই সময়সীমা কতক্ষণ হবে, তা হেমা চাকমাকে টিএসসি পরিচালক ও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এই সময়সীমা নারী ও পুরুষ— কারও জন্য আলাদা হবে না বলেও তিনি জানান।

Advertisements