আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও নিজেদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির স্বাক্ষর রাখল বাংলাদেশের খুদে রোবটবিজ্ঞানীরা। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট শহরে অনুষ্ঠিত ২৭তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে (আইআরও) অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা একটি স্বর্ণসহ মোট ১১টি পদক জিতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি ব্রোঞ্জ ও চারটি টেকনিক্যাল পদক। এই সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে আরও একবার দেশের পতাকা উড়ল গৌরবের সঙ্গে।
গত ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বর গোল্ড কোস্টের মান্ত্রা সাউথপোর্ট শার্ক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় রোবটিক্সের এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসর। প্রতিযোগিতার ক্রিয়েটিভ ক্যাটাগরির সিনিয়র গ্রুপে বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল টিটু। ২১ ডিসেম্বর আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক তুলে দেওয়া হয়।
বিভিন্ন বিভাগে ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন নুসাইবা তাজরিন (ক্রিয়েটিভ মুভি ও ফিজিক্যাল কম্পিউটিং), জুবাইদাহ জাফরিন (ফিজিক্যাল কম্পিউটিং জুনিয়র লো), রিদোয়ান রাব্বানী (ফিজিক্যাল কম্পিউটিং জুনিয়র হাই), খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম এবং প্রিয়ন্তী দাস। অন্যদিকে টেকনিক্যাল পদক অর্জন করেন মোহাম্মদ জারিফ বিন সালেক, নাফিয়া বাসার, জাইমা যাহিন এবং প্রিয়ন্তী দাস।
বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিশাল ইসলাম এবং সহকারী কোচ হিসেবে ছিলেন এম তানজিম আল ইসলাম দিবস। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি এ এ মুনির হাসান। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামালও এই আসরে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের এই সাফল্যের যাত্রা নতুন নয়। ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে গত আট বছরে দেশটি এই প্রতিযোগিতা থেকে মোট ১৫টি স্বর্ণসহ ৯৪টি পদক অর্জন করেছে। এবারের আসরের আগে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও বাংলাদেশি দলগুলো উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখায়। সেখানে টিম লেইজি-গো ষষ্ঠ স্থান এবং সোরাল্যাবস ও সাইবার স্কোয়াড নবম স্থান অর্জন করে।
বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) আয়োজনে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ধাপের বাছাই শেষে এই শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়। অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল ও এ এ মুনির হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কোচ মিশাল ইসলামের নির্দেশনায় তারা এই কৃতিত্ব অর্জনে সক্ষম হয়। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতায় এই অংশগ্রহণ সম্ভব হয়েছে।
এই সাফল্য প্রমাণ করে, যথাযথ দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বপরিসরে প্রযুক্তিনির্ভর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষম এবং আগামীর উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ে তুলতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



