স্টিয়ারিংয়ে হাত, জীবনের নিয়ন্ত্রণে নারী

একসময় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের একটি গ্রামে রেজিনা বর্ষার জীবন ঘুরপাক খেত ঘরের কাজ আর ক্ষেতের পরিশ্রমে। কলেজে যাতায়াত আর সংসারের ব্যস্ততার ফাঁকে তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল—একবার ঢাকা শহরটা দেখা। তখন কে জানত, সেই ঢাকা একদিন হবে তার কর্মক্ষেত্র, আর সে নিজেই চালাবে চার চাকার গাড়ি!
একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা শুনে প্রথমে সে ভেবেছিল, “গাড়ি চালানো কি মেয়েদের কাজ?” কিন্তু প্রশিক্ষণ হবে ঢাকায়—এই কথাটাই তার সিদ্ধান্ত বদলে দেয়। ভাবল, শেখা হোক বা না হোক, শহরটা তো দেখা হবে!
তবে পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বাবার প্রবল আপত্তি, আত্মীয়স্বজনের কটাক্ষ—সব মিলিয়ে শুরুতেই দেয়াল উঠে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এক আত্মীয়ের সাহসে সে ঢাকায় আসে। প্রথম দিকে স্টিয়ারিং ধরেই ভয় পেত। কোথাও ডানে ঘোরাতে বললে বামে ঘুরিয়ে দিত। কয়েকবার মনে হয়েছিল, এই কাজ তার দ্বারা হবে না। একাধিকবার বাড়িতেও ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু প্রশিক্ষকদের ধৈর্য আর নিজের জেদের কাছে হার মানে ভয়।
তিন মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে আজ রেজিনা বর্ষা ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদার চালক। নিয়মিত বেতন, বোনাস, ওভারটাইম—সব মিলিয়ে এখন সে নিজের পায়ে দাঁড়ানো একজন মানুষ। স্বামী-সন্তান নিয়ে শহরের সংগ্রামী জীবন হলেও তার চোখেমুখে আত্মসম্মানের দীপ্তি।



