বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
নারী

লোকলজ্জাকে জয় করে স্বাবলম্বী আরজু

Untitled-2

সংসারের অভাব যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছিল, তখন সমাজের চোখরাঙানি আর কটুকথাকে পাত্তা না দিয়ে জীবনসংগ্রামে নামেন আরজু বেগম। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বীতার প্রতীক। প্রায় এক দশক ধরে তিনি পত্রিকা বিক্রি করে শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, হয়ে উঠেছেন অনেক নারীর অনুপ্রেরণা।

ফুলবাড়ীর চক শাহাবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী আরজু বেগমের জীবনে নেমে আসে বড় দুঃসময়, যখন তার স্বামী টানা কয়েক বছর নিখোঁজ থাকেন। দুই মেয়েকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান তিনি। একসময় দর্জির কাজ করলেও তা দিয়ে সংসারের খরচ আর মেয়েদের পড়াশোনা চালানো সম্ভব হচ্ছিল না।

ঠিক তখনই কঠিন এক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্থানীয় এক পত্রিকা এজেন্টের পরামর্শে শুরু করেন সংবাদপত্র বিক্রির কাজ—যে পেশায় এই এলাকায় আগে কোনো নারী নামেননি।

শুরুর দিনগুলো ছিল কষ্ট আর অপমানের। ভোরের আলো ফোটার আগেই সাইকেল নিয়ে বের হওয়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পত্রিকা পৌঁছে দেওয়া—এসব দেখে অনেকেই কটূ কথা বলেছে। কিন্তু থেমে যাননি আরজু। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে গৃহস্থালির কাজ আর গবাদিপশুর দেখাশোনা শেষ করে তিনি শহরের দিকে রওনা দেন। সেখান থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করে শহর ও গ্রামের কয়েকটি ওয়ার্ডে নিয়মিত পৌঁছে দেন শতাধিক কপি।

Advertisements

দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের পর দুপুর নাগাদ কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরেন তিনি। এভাবেই প্রতিদিনের সংগ্রাম আর নিয়মের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে তার জীবন।

আজ আরজু বেগম শুধু নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন তা নয়—তিনি দুই মেয়েকে বড় করেছেন, পড়াশোনা করিয়েছেন, সম্মানজনকভাবে তাদের বিয়ে দিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন নিজের পাকা ঘর। গৃহস্থালিতে যোগ হয়েছে গবাদিপশুও। পত্রিকা বিক্রির আয়েই এখন তাঁর সংসার চলে স্বচ্ছলভাবে।

প্রতিবেশীরা বলেন, একসময় যাকে সবাই করুণ চোখে দেখত, আজ তার সাফল্যই অন্যদের সাহস জোগায়। পত্রিকা এজেন্ট থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তার এই লড়াইকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

আরজু বেগম প্রমাণ করে দিয়েছেন—সাহস আর পরিশ্রম থাকলে সমাজের সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

Advertisements