বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

গুচ্ছ কবিতা

Copy of cover purnia(77)

পাহাড়ের বুকে জমা রাখা কষ্টগুলো

পাহাড়ে গিয়েছিলাম আমি

মেঘেদের কাছে মন খারাপের গল্প বলতে,

উড়ে এলো মেঘের দল

পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ হতে

জড়িয়ে ছুঁয়ে বসে রইল।

আমার গল্পগুলো শুনতে শুনতে

আমার কান্নার সাথে সেও কাঁদল।

তারপর বলল দূর বোকা মেয়ে!

কষ্টে বাঁচতে নেই,

পাহাড়ের কাছে কষ্টগুলো জমা রাখ

দেখবি সকালে পাহাড়ের বুক চিরে

যখন সূর্য উঠবে, তোর কষ্টগুলো হেসে উঠবে।

তোর দু চোখে তখন প্রেম নেচে উঠবে

নীল পাহাড়ের বুকে সবুজ বৃক্ষে

সেখানে উড়ে আসবে হাজার প্রজাপতি।

ফিরে যা”িছ আমি কষ্টগুলো পাহাড়ের

কাছে জমা রেখে

সাথে নিয়ে গেলাম কিছু বৃষ্টি মেঘ।

কখনো উড়ে পাহাড়ের বুকে আসব

কষ্টগুলো কেমন আছে দেখতে,

কষ্টগুলোকে যে বড়ো ভালোবাসি আমি।

যেখানে বসে আছে শৈশব-কৈশোরের

সেই কালো চোখের কালো মেয়েটি

যে স্বপ্ন দেখেছিল একদিন, সুখের স্বপ্ন।

চল জ্বালাই শান্তির প্রদীপ

শুনছ তুমি

চল না এবার ছুটিতে

সাগর দেখতে যাই,

ওই কৃষ্ণ সাগরে গভীর অবগাহনে।

বাতাসে উড়াই মনের

যত না-বলা কথা তোমায় ঘিরে।

পূর্ব-পশ্চিমে উপবৃত্তাকারে,

বুলগেরিয়া, জর্জিয়া, রোমানিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক এবং ইউক্রেন

কখনো রাতের নিস্তব্ধতা ঘিরে

তোমার আমার মাঝে।

মুহুর্মুহু গোলার আঘাত

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার।

শান্তির মাঝে অশান্তির প্রতিঘাত

কখনো তুর্কি বীর কামাল পাশার

আহŸান ধর্ম নিরপেক্ষতার।

পরিব্রাজক ইবনে বতুতা এই সাগরের

তীর ধরে হেঁটে গেছেন

দেশ থেকে দেশান্তরে।

তুমি আমি জ্বালাই শান্তির প্রদীপ

নিঃসীম গভীর সাগরের বুকে,

গহিন থেকে গভীরে।

কখনো স্বপ্নে দেখেছি

দাঁড়িয়েছি কৃষ্ণসাগর পারে,

যা ছিল একসময় মিষ্টি পানির হ্রদ

যেখানে গড়ে উঠেছিল প্রাচীন সভ্যতা

হিমবাহ গলে গলে ভ‚মধ্যসাগরের জলরাশি।

মহাপ্লাবনে ডুবিয়ে দেয় সেই জনপদ

কৃষ্ণ সাগর অতলে,

যা লিপিবদ্ধ আছে

গিলগামেসের মহাকাব্যে, গ্রিক পুরাণ বা বাইবেলে।

আজ তার তীরে কত দেশ, নতুন সভ্যতা

তবুও অশান্ত মানুষ, যুদ্ধ দেশে দেশে।

চল দু হাতে উড়াই ফানুস

কৃষ্ণসাগর কোল ঘেঁষে,

বন্ধ হোক গোলার আঘাত

পৃথিবীর পরে দেশে দেশে উড়–ক শান্তির পায়রা।

ঘর থেকে ঘরে থেমে যাক যুদ্ধ,

নেমে আসুক শান্তির বারতা।

সকল কলুষিত অন্তরে,

যেখানে মনের কোনে শুধুই হিংসা প্রতিঘাত।

আজ যে শিশু

আজ যে শিশু স্বপ্ন আঁকে

কাদামাটি নিয়ে খেলছে পথের বাঁকে,

সমুদ্রসৈকতে গড়ে বালুর ইমারত

দৃষ্টির প্রদীপ মেলে মনের দ্বৈরথ।

আজ যে শিশু ভাবনার স্ফুরণ

মনের গহনে বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর,

কুঁড়ি থেকে অসংখ্য ফুটন্ত গোলাপ

সৌরভ গৌরবে জীবন সংলাপ।

আজ যে শিশু ভোরের সূর্য

মনের আলোয় বিরোধ অন্যায় তুর্য,

মনের গভীরে জ্বলে মনের আলোক

ভরে থাক সেথায় অমৃতলোক।

আজ যে শিশু যার উড়ন্ত মন

দিকে দিকে তার অবাধ বিচরণ,

কখনো আকাশ কখনো পাতাল

মুক্তির রথে ওড়ে স্বপ্নের সুর-আলাপ।

আজ যে শিশু আগামীর পৃথিবী

মুক্তির সোপানে রচে জীবন দিনলিপি।

তোমার জন্য

তোমার জন্য অথই জল

তোমার জন্য বাঁচার ছল,

তোমার জন্য রাত-ভোর

তোমার জন্য খোলা-দোর।

তোমার জন্য প্রেমের চিঠি

তোমার জন্য সাগর মিঠি,

তোমার জন্য শিউলি ফুল

তোমার জন্য খোলা-চুল।

তোমার জন্য উত্তাল সমুদ্র

তোমার জন্য প্রেম অতন্দ্র,

তোমার জন্য সন্ধ্যাতারা

তোমার জন্য শুকতারা।

তোমার জন্য চন্দ্র-শশী

চোখ চুমে বলে ভালোবাসি।