মঙ্গোলিয়ায় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা জানালেন সাবেক টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু

চেঙ্গিস খানের দেশ মঙ্গোলিয়ায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু। গত অক্টোবরে তিনি দেশটির রাজধানী উলানবাটোরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও যাযাবর জনগোষ্ঠীর জীবন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।
মঙ্গোলিয়ায় পা রাখার পর থেকেই ইতিহাসের প্রভাব স্পষ্ট বলে জানান লিনু। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেঙ্গিস খানের প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য চোখে পড়ে। ছোটবেলায় চেঙ্গিস খানের বিশ্বজয়ের গল্প পড়েই মঙ্গোলিয়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ভ্রমণের প্রথম দিনে তিনি ঘুরে দেখেন উলানবাটোরের ঐতিহাসিক গানডেন মনাস্ট্রি। প্রায় ২০০ বছর পুরোনো এই বৌদ্ধমঠে শতাধিক সন্ন্যাসী বসবাস করেন। এরপর যান পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সুখবাটার স্কয়ারে। স্কয়ারের নামকরণ করা হয়েছে মঙ্গোলিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা দামদিন সুখবাটারের নামে। সেখানে তার ভাস্কর্য ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ভবন রয়েছে। একই দিনে তিনি পার্লামেন্ট ভবন, ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে নির্মিত জাইসান মেমোরিয়ালও পরিদর্শন করেন।
পরদিন তিনি শহর ছেড়ে মঙ্গোলিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমির দিকে যাত্রা করেন। পথে দুই কুঁজবিশিষ্ট ব্যাকট্রিয়ান উট, পাহাড় আর খোলা মাঠের দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করে। এ সময় তিনি ঘোড়ায় আরোহী চেঙ্গিস খানের বিশাল স্টেইনলেস স্টিলের ভাস্কর্যও পরিদর্শন করেন। ভাস্কর্যের ওপরের ভিউয়িং প্ল্যাটফর্ম থেকে তৃণভূমির প্যানারোমিক দৃশ্য উপভোগ করেন তিনি।
ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল যাযাবর জনগোষ্ঠীর জীবন দেখা। লিনু যাযাবরদের আবাস ‘গের’-এ সময় কাটান। ভেড়ার চামড়া ও উল দিয়ে তৈরি এই তাবুর ভেতরে ফায়ারপ্লেস, উলের কার্পেট ও রঙিন নকশা রয়েছে। যাযাবর পরিবারটির আতিথেয়তায় ঐতিহ্যবাহী দুধ-চা ও স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেন তিনি।
এ ছাড়া উট ও ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতার কথাও জানান সাবেক এই ক্রীড়াবিদ। তার মতে, যাযাবরদের জীবন আধুনিক সভ্যতা থেকে অনেক দূরে হলেও প্রকৃতি ও প্রাণীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তারা টিকে আছে।
ভ্রমণের শেষদিকে তিনি পাহাড়ি এলাকা ও একটি ঝুলন্ত সুইং ব্রিজ পরিদর্শন করেন। দুলতে থাকা সেতু পার হওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি রোমাঞ্চকর বলে উল্লেখ করেন।
জোবেরা রহমান লিনুর ভাষায়, মঙ্গোলিয়া ভ্রমণ তাকে একাকিত্ব ও প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের নতুন অর্থ বুঝিয়েছে। বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, যাযাবর সংস্কৃতি ও ইতিহাসসমৃদ্ধ এই দেশ তার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



