বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

শীত, অলসতা আর স্কিন কেয়ার

1-SM910229

শীত এলেই যেন চারপাশে আলস্যের হাওয়া ছড়িয়ে যায়। সকাল একটু দেরিতে আসে, সূর্যের আলোও থাকে কম। বিছানার উষ্ণতা ছাড়তে ইচ্ছা করে না, আর ত্বকের যত্ন নেওয়া তো আরও কঠিন। মনে হয়, যাক গে ফেসওয়াশটা বাদই থাক, ময়শ্চারাইজার পরে লাগাব। কিন্তু পরে আর হয় না। অনেকেই এটাকে বলে উইন্টার হাইবারনেশন। শরীর আর মন দুটিই ধীর হয়ে যাওয়া। আর যখন ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে, ঠোঁট ফেটে যায়, তখন শুরু হয় স্কিন কেয়ার গিল্ট।

শীতকালে দিন ছোট হয়, সূর্যের আলো কমে। এতে শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ সেরোটোনিন ও ডোপামিন স্বাভাবিকের তুলনায় কম তৈরি হয়। ফলেই ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব এবং একটু মন খারাপও বাড়তে পারে। এই মৌসুমে সোয়েটার, কম্বল, গরম চা সবই চাই, কিন্তু স্কিন কেয়ার? ওটা যেন অতিরিক্ত ঝক্কি।

আজকাল ত্বকযত্ন শুধু সাজসজ্জা নয়, এক ধরণের সেলফ কেয়ার বা নিজেকে সময় দেওয়ার অংশ। তাই যখন কেয়ার রুটিন পিছিয়ে যায় অনেকেই অজান্তেই একটা অপরাধবোধ অনুভব করেন। তার ওপর সোশ্যাল মিডিয়া একদিকে শীতের আরামদায়ক লুকের রিল, অন্যদিকে নিখুঁত স্কিন কেয়ার রুটিন। ফলে মাথার ভেতর তৈরি হয় চাপ, আমি কি পিছিয়ে পড়ছি?

বাংলাদেশে শীত খুব দীর্ঘ নয় কিন্তু বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় বেশ ভালোভাবেই। এতে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়, ঠোঁট ফেটে যেতে পারে, চুলকানি দেখা দেয়, কখনো কখনো হাত-পা ফেটে যায়, গরম পানিতে ঘন ঘন গোসল করলে সমস্যা আরও বাড়ে। কারণ এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়।

Advertisements

জটিল ১০-ধাপের রুটিন শীতে বাস্তবসম্মত নয়। বরং এমন কিছু ব্যবহার করা ভালো যা দ্রুত করা যায়, কম চিন্তা লাগে, আর মানসিকভাবে আরাম দেয়। নিচের সহজ রুটিন মেনে চললে স্কিন কেয়ারে ধারাবাহিকতা রাখা সহজ।

নরম ক্লিনজার – ক্রিমি বা মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয় না।

রিচ ময়শ্চারাইজার – গ্লিসারিন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা সেরামাইড সমৃদ্ধ ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

অল-ইন-ওয়ান সেরাম বা ময়শ্চারাইজার – লম্বা রুটিন চাই না? একটি ভালো অল-ইন-ওয়ান ব্যবহার করলেই চলে।

ঠোঁটের যত্ন – লিপ বাম সবসময় হাতের কাছে রাখুন।

রাতে হালকা অয়েল মাসাজ – নারকেল, অলিভ বা বাদাম তেলের হালকা মালিশ শুষ্কতা কমাতে দারুণ কাজ করে।

কুসুম গরম পানি – একেবারে গরম পানি নয়; ত্বক টান ধরবে। কুসুম গরমই যথেষ্ট।

রোদে ১৫–২০ মিনিট – প্রাকৃতিক ভিটামিন-ডি মুড, ঘুম ও ইমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শীতে মানসিক আরামও জরুরি

শীত মানেই একটু স্লো-মোশন জীবন। তাই স্কিন কেয়ারেও চাপ নয়, আরাম চান। চাইলে হালকা সুগন্ধযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন, শিট মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন সপ্তাহে ১–২ বার এবং উষ্ণ তোয়ালে দিয়ে ২-৩ মিনিট ফেস স্টিম নিলে ভালো লাগে। সন্ধ্যায় একটু সময় নিয়ে রুটিন করলে তা মানসিক প্রশান্তিও দেয়।

শীতের অলসতা স্বাভাবিক সবারই হয়। স্কিন কেয়ারে গিল্ট নয় ছোট ছোট পদক্ষেপই যথেষ্ট। নিজের প্রতি সদয় থাকুন, আরাম নিন, আর ত্বককে দিন সহজ কিছু ভালোবাসা। শীতটাও তখন আরও সুন্দর লাগবে।

Advertisements