বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
নারী

নারীর মুখের নিকাব সরিয়ে তোপের মুখে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী

Untitled-2

ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার সরকারি এক অনুষ্ঠানে নিয়োগপত্র প্রদানকালে এক মুসলিম নারী চিকিৎসকের নিকাব নিজ হাতে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) পাটনায় আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে আয়ুষ বিভাগের (আয়ুর্বেদ, যোগ, ন্যাচারোপ্যাথি, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথি) এক নারী চিকিৎসক নিয়োগপত্র নিতে মঞ্চে উঠলে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার প্রথমে ওই নারী চিকিৎসককে ইশারায় নিকাব সরাতে বলেন। তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখ্যমন্ত্রী নিজেই হাত বাড়িয়ে তার নিকাব টেনে নামিয়ে দেন, ফলে তার মুখ ও থুতনি দৃশ্যমান হয়ে পড়ে।

ভিডিওতে মঞ্চের পেছনে উপস্থিত কয়েকজনকে হাসতে দেখা যায়। একই সঙ্গে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকেও নীতিশ কুমারকে থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।

Advertisements

এ ঘটনার পর নীতিশ কুমারের আচরণ ও মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস ঘটনাটিকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘ঘৃণ্য’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।

বিরোধী দল আরজেডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পর্দানশিন মুসলিম নারীর নিকাব প্রকাশ্যে খুলে দেওয়া নারীর মর্যাদা ও ব্যক্তিগত অধিকারের পরিপন্থী। দলটির এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে হিন্দিতে লেখা হয়, “নীতিশজির কী হয়েছে? তার মানসিক অবস্থা করুণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।”

কংগ্রেসও তাদের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, “একজন নারী চিকিৎসক সম্মানজনকভাবে নিয়োগপত্র নিতে এসেছিলেন, আর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে তার নিকাব টেনে নামালেন। রাজ্যের সর্বোচ্চ পদে থাকা একজন মানুষের এমন আচরণ নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এই জঘন্য আচরণের জন্য নীতিশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।”

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Advertisements