রাণীনগরের পাঁচ নারী পেলেন ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য ও সামাজিক অবদানের জন্য পাঁচ নারীকে ‘অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীরা হলেন—অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী মোছা: সাবিনা বিবি, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সফল মোছা: শাহানাজ বেগম, সফল জননী মোছা: মোমেনা বিবি, নির্যাতন-জয়ী মোছা: ছালমা এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা মোছা: ফেমী বিবি। এদের মধ্যে সফল জননী মোমেনা বিবি জেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন।
মোমেনা বিবি জানান, মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। অভাবের মধ্যে পাঁচ সন্তানকে বড় করেছেন। জায়গা-জমি বিক্রি করে সন্তানদের পড়ালেখা করিয়েছেন। আজ তাঁর সব সন্তানই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে রামেক থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে এখন নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন হিসেবে কর্মরত।
শাহানাজ বেগম বলেন, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে অভাব-অনটনের কারণে টিউশনি করেই পড়ালেখা চালিয়েছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এখন তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অর্থনৈতিকভাবে সফল সাবিনা বিবি জানালেন, এনজিও থেকে দুইটি ছাগল নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। এখন তাঁর ১৭টি ছাগল, একটি গরু ও ৭০টি হাঁস রয়েছে। এসব বিক্রি করে প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।
নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে উঠে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ছালমা। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তালাক নেন। বাবার বাড়িতে ফিরে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে সংসার সামলাচ্ছেন। নিজের সন্তান ও দুই বোনের পড়ালেখার খরচও তিনি বহন করেন।
সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন ফেমী বিবি। পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও নারী নির্যাতনবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনা আকতার বলেন, ‘এই নারীরা সমাজে পিছিয়ে থাকা আরও অনেক নারীর অনুপ্রেরণা। তাঁদের খুঁজে বের করে স্বীকৃতি দেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব।’



