বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
নারী

ফুল চাষে রিমার ঘরে স্বচ্ছলতার হাসি

Untitled-3

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় এই কথার বাস্তব প্রমাণ রেখেছেন রাঙামাটির রিমা চাকমা। ছোটবেলা থেকেই অভাব দুর্ভাগ্য তার সঙ্গী হলেও থেমে যাননি  তিনি। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাঁদা ফুলের চাষ।

রাঙামাটি সদর উপজেলার আসামবস্তি বরাদাম এলাকার এই রিমা চাকমার স্বামী পাহাড় থেকে লাকড়ি কুড়িয়ে বিক্রি করেন। কিন্তু স্বামীর সামান্য আয়ে সংসারের টানাপোড়েন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। ঠিক তখনই সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে এগিয়ে আসেন রিমা। হলুদ গাঁদা ফুলের সৌরভে এখন তার ঘরেও ফুটেছে স্বচ্ছলতার হাসি। এই হাসিই তাকে সামনে আরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে এ যেন সত্যিই ‘গাঁদা ফুলের রঙে রাঙানো রিমার সংসার’।

রিমার দুই ছেলে বড়টির বয়স ১০ বছর, ছোটটির ৬। দু’জনই স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। স্বামীর অল্প আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে থাকলে স্থানীয় এক কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে রিমা দুই বছর আগে বাড়ির পাশের পাহাড়ঘেঁষা এক পতিত জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ শুরু করেন। পুঁজির অভাব ছিল প্রকট, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।

রিমা বলেন,”মানুষ অনেক হাসাহাসি করত। বলত, মেয়ে মানুষ হয়ে ফুল চাষে কী হবে! লাভ হবে তো? কিন্তু আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। আজ এই ফুলই আমার দুই সন্তানের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালায়।”

মাত্র দুই শতক জমিতে গাঁদা ফুল চাষ করে এখন তিনি মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করেন। শীতকাল ও বিভিন্ন পূজার মৌসুমে গাঁদা ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। আসামবস্তি–কাপ্তাই সড়কের বিলাইছড়ি পাড়া বাজারে তিনি প্রতিদিন ফুল বিক্রি করেন। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এখন তাঁর ফুল রাঙামাটির পাইকারি বাজারেও যায়। ভবিষ্যতে জমি আরও বাড়িয়ে ফুল চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

রিমার সংগ্রাম এখন আশপাশের অনেক নারীর অনুপ্রেরণা। তিনি স্বপ্ন দেখেন, একদিন বড় ফুল ব্যবসায়ী হবেন।

“সরকার থেকে যদি একটু সহযোগিতা পাই, আরও বড় করে চাষ করতে পারব। আমার মতো অসহায় অনেক দিদিকে কাজের সুযোগ দিতে চাই,” বলেন রিমা চাকমা।

রিমার ফুলচাষের গল্প প্রমাণ করে ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতাকেও জয় করা সম্ভব। তার গাঁদা ফুলের বাগান আজ স্বপ্ন, আশা আর স্বচ্ছলতার এক রঙিন প্রতীক।

Advertisements