বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
নারী

স্যানিটেশন উন্নয়নে বড় পরিবর্তন শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে

WhatsApp Image 2025-12-07 at 10.49.46 PM

আধুনিক স্যানিটেশন কমপ্লেক্স নির্মাণের পর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৭০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীর জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন। অনেকটা রাতারাতি বদলে গেছে তাদের জীবন। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির অভাবে তাদের দৈনন্দিন ভোগান্তি ছিল দীর্ঘদিনের, যা অনেকটা এক নিমিষে শেষ হয়ে গেছে।

বছরের পর বছর বিদ্যালয়টিতে ছিল মাত্র একটি শৌচাগার। বিরতিতে লম্বা লাইন, সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি যেন নিত্যদিনের বিষয় ছিল। পরিস্থিতির এই দীর্ঘস্থায়ী চিত্র বদলে যায় যখন ওয়াটারএইড বাংলাদেশ, আইডিইএ এবং দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় একটি পূর্ণাঙ্গ স্যানিটেশন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। আধুনিক এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন হয়, যা বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।

নতুন কমপ্লেক্সে এখন ছেলে এবং মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পৃথক শৌচাগার, পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ডব্লিউএএসএইচ) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান।

শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুচিত্রা রানি রায় বলেন, ‘এই স্যানিটেশন কমপ্লেক্স শুধু মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করছে না, মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা সুবিধা যুক্ত হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতির হারও কমেছে।’ 

তিনি আরও বলেন, কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন কার্যকর রাখতে তিনি অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছেন।

এই উদ্যোগটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত লক্ষ্য ৬ এবং দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন সংক্রান্ত লক্ষ্য ১২–এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

সুচিত্রা রানি রায় বলেন, কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন ও ওয়াটারএইডের সহযোগিতা বিদ্যালয়ের ওয়াশ সুবিধাকে বদলে দিয়েছে এবং শেখার পরিবেশকে আরও উন্নত করেছে। এটি আমাদের দেখায়, কীভাবে কমিউনিটি–ভিত্তিক অংশীদারিত্ব গ্রামীণ বাংলাদেশের শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

Advertisements