বারবার ময়শ্চারাইজার মাখলেও ত্বক শুষ্ক?

শীতের সময়ে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই আর্দ্রতা হারায়। ফলে গোসলের পরপরই হাত-পা টান ধরতে পারে, ঘাড়-পিঠ খসখসে লাগে এবং ঠোঁটও শুকিয়ে যায় বারবার। শুধু ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলেই সমাধান হয় না। সঠিক গোসলের নিয়ম না মানলে শুষ্কতা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই শীতের ত্বকের যত্নে কয়েকটি সহজ নিয়ম মানা জরুরি।
শীতে ত্বকের উপরিভাগে মরা কোষ জমে যায়। ময়শ্চারাইজার তা শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। তাই গোসলের আগে শরীরে নারকেল বা অলিভ অয়েল মেখে নেওয়া খুব উপকারী। সামান্য গরম করা তেল ত্বকে আরও ভালোভাবে শোষিত হয়। তেল লাগানোর আধা ঘণ্টা পর গোসলের সময় লুফা দিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করলে ডেড স্কিন সহজে ঝরে যায় এবং ত্বক আরও উজ্জ্বল দেখায়। এরপর ভালো মানের একটি ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক দীর্ঘসময় নরম থাকে।

শীতের দিনে গোসলে কুসুম গরম পানি ব্যবহারই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু পানি বেশি গরম হলে ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ নষ্ট হয়ে যায়, ত্বক রুক্ষতা, র্যাশ বা চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পানি হালকা গরম রাখাই উত্তম। চাইলে গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল মিশিয়ে নিতে পারেন, এতে ত্বক আরও কোমল থাকে।
সাবানের পরিবর্তে শাওয়ার জেল ব্যবহার করাও শীতের ত্বকের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত। সাবানে ক্ষারের মাত্রা বেশি থাকে যা শুষ্কতা বাড়ায়। অন্যদিকে শাওয়ার জেলে ক্ষার কম থাকে এবং অতটা রুক্ষতা তৈরি করে না। শীতের জন্য এমন শাওয়ার জেল বেছে নিন, যাতে আরগান অয়েল, গ্লিসারিন, সেরামাইড বা হায়ালুরনিক অ্যাসিডের মতো ময়শ্চারাইজিং উপাদান থাকে। কেনার সময় অ্যালকোহল বা প্যারাবেনমুক্ত কি না দেখে নিন।
গোসলের পর ত্বক যখন সামান্য ভেজা থাকে তখনই ময়শ্চারাইজার লাগানো সবচেয়ে কার্যকর। গবেষণায় দেখা যায়, গোসলের তিন মিনিটের মধ্যে ময়শ্চারাইজার লাগালে তা ত্বকে ভালোভাবে শোষিত হয়। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে গ্লিসারিন বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
পায়ের যত্নেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। পা ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় ময়শ্চারাইজার লাগালে ত্বক দীর্ঘসময় আর্দ্র থাকে। গোড়ালি ও আঙুলের ফাঁকে একটু বেশি পরিমাণ ক্রিম ব্যবহার করা জরুরি। রাতে ভারী ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমালে পায়ের ত্বক দ্রুত মসৃণ হয়। এখন বাজারে সিলিকনের বিশেষ মোজাও পাওয়া যায়, যেগুলোর ভেতরে ময়শ্চারাইজিং উপাদান থাকে। সেগুলো রাতে পরে ঘুমালে সকালে পায়ের ত্বক আরও সতেজ ও কোমল লাগে।
শীতের ত্বকের সমস্যা এড়াতে নিয়মগুলো মেনে চললে ত্বক থাকবে নরম, আর্দ্র এবং সুস্থ।



