বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
নারী

স্বপ্ন, পরিশ্রম আর পরিবারের অনুপ্রেরণায় পরপর দুই বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ইরা

Untitled-2

চুয়াডাঙ্গার কুলচারা গ্রামের মেয়ে তাজিন জান্নাত ইরা পরপর দুই বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়ে সৃষ্টি করেছেন এক বিশেষ দৃষ্টান্ত। ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে এবং ৪৫তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দেখিয়েছেন লক্ষ্য স্পষ্ট হলে পরিশ্রমই সফলতার দরজা খুলে দেয়।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ইরা ছিলেন উজ্জ্বল। এসএসসিতে জিপিএ ৪.৭৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ–৫ পাওয়ার পর তিনি এলএলবি ও এলএলএম দুটোতেই সিজিপিএ ৪ অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে দু’টি স্বর্ণপদকও রয়েছে তার ঝুলিতে। পাশাপাশি কবিতা লেখা ও আবৃত্তিতে জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

বিসিএসের পথে তার অনুপ্রেরণার মূল উৎস ছিলেন বাবা। বাবা সবসময় চাইতেন মেয়েও সবার সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর সেই স্বপ্নকে লালন করেন তাঁর মা। ইরা বলেন, মা সবসময়ই তাঁকে বিশ্বাস করাতেন যে তিনি পারবেন। সেই বিশ্বাসই তাঁকে কঠিন সময়েও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে। এইচএসসির পর বিয়ে হলেও তাঁর স্বামী জনি সবসময় সমর্থন দিয়ে গেছেন। অনেকের নিরুৎসাহিত করা সত্ত্বেও তিনি ইরার স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

ইরা বিসিএস প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন লিখিত পরীক্ষার ওপর। তার মতে, পছন্দের ক্যাডার পেতে হলে লিখিতেই ভালো করতে হবে। এজন্য তিনি সিলেবাস পরিষ্কারভাবে বুঝে রুটিন তৈরি করেন এবং নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান। বাংলা–ইংরেজি গ্রামারের ভিত্তি মজবুত করেন, প্রতিদিন ভোকাবুলারি পড়েন, পড়া ভুলে না যেতে প্রচুর লিখে অনুশীলন করেন। কঠিন বিষয়গুলো বোঝার জন্য ইউটিউবে বিভিন্ন লেকচার দেখেও ধারণা পরিষ্কার করেন। অনার্স প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি বিসিএসের জন্য অল্প অল্প করে পড়তেন। তাই চতুর্থ বর্ষে ওঠার আগেই তাঁর পুরো সিলেবাস শেষ হয়ে যায় এবং তিনি লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বেশি সময় দিতে পারেন।

বিসিএসের আগে তিনি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে আবেদন করেছিলেন এবং সেই পরীক্ষায়ও সফল হয়ে চাকরি পান। তবে তাঁর মূল লক্ষ্য বিসিএস হওয়ায় তিনি প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত পরপর দুটি বিসিএসে সাফল্যের মুখ দেখেন।

নতুন প্রার্থীদের জন্য ইরার পরামর্শ নিয়মিত পড়াশোনা, পরিকল্পিত রুটিন এবং প্রতিদিনের রিভিশনই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাকে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছে।

Advertisements