বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
নারী

গাছের মধ্যে প্রাণ দেখতে পান যে বিজ্ঞানী

Untitled-3

আজ ৩০ নভেম্বর, বাঙালি জ্ঞানতাপস, পদার্থবিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিদ এবং বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ আচার্য স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মদিন। উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা তাঁর হাত ধরেই হয়েছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে তাঁর অবদান বহুমুখী; ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইই) তাঁকে বেতারবিজ্ঞানের অন্যতম জনক হিসেবে অভিহিত করে।

১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বসু। তার পিতা ভগবান চন্দ্র বসু ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সন্তান হলেও তিনি জগদীশ চন্দ্রকে গ্রামের বাংলা বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন, যা দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর মমত্ববোধ জাগ্রত করে।

কলকাতার হেয়ার স্কুল ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়াশোনার পর লন্ডনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৃতিবিজ্ঞানে স্নাতক হন। ১৮৮৫ সালে ভারতে ফিরে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হন। বৈষম্যের শিকার হলেও তাঁর গবেষণার উৎসাহ অটুট থাকে।

১৮৯৫ সালে বসু তারহীন শব্দ প্রেরণের মাধ্যমে “ক্রিস্টাল রিসিভার” আবিষ্কার করেন, যা আধুনিক রেডিও প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে। বাণিজ্যিক স্বার্থে আগ্রহ না থাকলেও এই উদ্ভাবন রাডার প্রযুক্তির প্রাথমিক ধাপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্যপূর্ণ।

বসুর সবচেয়ে আলোচিত গবেষণা ছিল উদ্ভিদ জগতের সংবেদনশীলতা। উদ্ভিদের বৃদ্ধির গতি ১০ হাজার গুণ পর্যন্ত বড় করে নিখুঁতভাবে পরিমাপ করার জন্য তিনি “ক্রেসকোগ্রাফ” উদ্ভাবন করেন। বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে তিনি দেখান যে উদ্ভিদও উদ্দীপকের প্রতি সাড়া দেয়, যা জীব ও জড়ের মধ্যে পার্থক্যকে অনেকটা ঘুচিয়ে দেয়।

১৯১৭ সালে কলকাতায় বসু বিজ্ঞানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় বিজ্ঞানীদের তৈরি করা এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জ্ঞান একত্রিত করা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বসু নাইটহুড ও রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপ লাভ করেন। তাঁর সম্মানে চাঁদের একটি খাদের নামকরণও করা হয়েছে।

বসু কল্পবিজ্ঞান ক্ষেত্রেও অবদান রাখেন। ১৮৯৬ সালে লেখা ‘নিরুদ্দেশের কাহিনী’ কুন্তলীন পুরস্কার জেতে এবং পরে ‘পলাতক তুফান’ নামে পুনঃপ্রকাশিত হয়। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিজ্ঞান কল্পকাহিনি হিসেবে গণ্য।

আজও বিজ্ঞান ও সাহিত্যপ্রেমীরা জগদীশ চন্দ্র বসুর সেই বৈজ্ঞানিক দর্শন ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে স্মরণ করছেন।

Advertisements