২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

চমেক হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৬৪% শিশু

Untitled-1

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে গেছে। গত আট দিনে শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একটি শয্যায় তিন থেকে চারজন শিশুকে পাশাপাশি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জায়গা না থাকায় অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

শিশু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় দিনে ৯৫৮ শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৬২০ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ১ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬৭, ৭২, ৬৯, ৭৩, ৬৫, ৭০, ৬৬, ৭০ ও ৬৫ জন। মাত্র ১৫০ শয্যার এই বিভাগে সোমবার পর্যন্ত ভর্তি ছিল ৪১০ শিশু।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে কান্না ও চিৎকারের শব্দে পরিবেশ ভারী। নার্সরা ব্যস্ত সময় পার করছেন—কেউ শিশুর শরীরে স্যালাইন দিচ্ছেন, কেউ আবার নেবুলাইজ করছেন। ওয়ার্ডের ২১ নম্বর শয্যায় পাশাপাশি চিকিৎসা নিচ্ছে তিন শিশু। তাদের একজন তিন মাস বয়সী আবদুর রহমান, যাকে তিন দিন আগে পতেঙ্গা থেকে ভর্তি করা হয়। তার মা সুমি আক্তার জানান, “ওর প্রচণ্ড কাশি, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, খেতেও পারছে না। ডাক্তাররা বলেছেন, নিউমোনিয়া। তিন দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে, কিন্তু তেমন উন্নতি নেই।”

আবদুর রহমানের পাশে রয়েছে ৪২ দিন বয়সী যমজ ভাই জাবেদ ও জুবায়ের। তাদের মা ববিতা বিবি বলেন, “দুই ছেলেরই প্রচণ্ড কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দিনে ছয় থেকে আটবার নেবুলাইজ করাতে হচ্ছে, তবুও কাশি কমছে না।”

সাত মাস বয়সী ওমর ফারুকের মা তানিয়া আক্তার জানান, “ওর বুকে কফ জমে গেছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ডাক্তাররা ছয় ঘণ্টা পরপর নেবুলাইজ করতে বলেছেন।”

চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ভর্তি হওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এক বছরের কম বয়সী শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে আছে। ভাইরাল ফ্লু ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এ রোগ বাড়ছে। অনেক অভিভাবক দেরিতে শিশুকে হাসপাতালে আনছেন, কেউ কেউ আবার নিজেরা ওষুধ খাওয়াচ্ছেন—এতে শিশুর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।”

Advertisements

নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে চট্টগ্রামের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালেও। সেখানে গত এক সপ্তাহে ১৭৮ শিশু ভর্তি হয়েছে এ রোগে।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও। পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়মিত চেম্বার করা চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ জানান, “হাসপাতাল ও চেম্বারে আসা অর্ধেকের বেশি শিশুই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অনেক শিশুর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে, যাদের ভর্তি করাতে হচ্ছে। একই পরিবারের একাধিক শিশুও আক্রান্ত হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ায় অবস্থার অবনতি ঘটছে অনেকের।”

Advertisements