বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
বিনোদন

‘খাবার জুটত না, গাছের পাতা খেয়ে থেকেছি’ — অভিনেত্রী সুচন্দা

suchanda-2511101148

বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী ও শহীদ নির্মাতা-সাহিত্যিক জহির রায়হানের সহধর্মিণী কোহিনূর আক্তার সুচন্দা স্মরণ করলেন জীবনের সংগ্রামী সময়ের কথা। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছেলে তপু রায়হান ঢাকা-১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মা সুচন্দা। এসময় তিনি কথা বলেন জীবনের কঠিন অধ্যায়, দেশপ্রেম এবং পরিবারের সংগ্রামের স্মৃতি নিয়ে।

সুচন্দা বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। আমি শুধু চাই, আমার ছেলে মানুষের জন্য, দেশের জন্য কাজ করুক। সে জহির রায়হানের ছেলে, তাই তার ভেতরও সেই মানবিকতা ও দেশপ্রেম কাজ করে। পরিবারের সবাই আজ খুব খুশি—হয়তো জহির রায়হান বেঁচে থাকলে তিনিও খুশি হতেন।”

স্বাধীনতার আন্দোলনের সময়ের কথা টেনে সুচন্দা বলেন, “তখন আমরা স্বাধীন দেশের স্বপ্নে মাঠে নেমেছিলাম। পায়ে জুতা আছে কি নেই, তা ভাবিনি। সংসদ কী, রাষ্ট্রপতি কে—এগুলোও বুঝতাম না। শুধু জানতাম, দেশ আর দেশের মানুষ—এই দুই বিষয়েই আমাদের লড়াই।”

জহির রায়হানের রাজনৈতিক ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জহির রায়হান সরাসরি রাজনীতি করতেন না, তবে রাজনীতির চেতনা ধারণ করতেন। তাঁর সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে সবসময় মানুষের কথা থাকত। তিনি নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।”

জহির রায়হানের নিখোঁজের পর পারিবারিক দুর্দশার কথা স্মরণ করে সুচন্দা আবেগভরে বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমন সময় গেছে যখন অভাবে গাছের পাতা খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে। তখন নিয়মিত খাবারও জোটেনি। তবুও হাল ছাড়িনি। সন্তানদের মানুষ করেছি, কারণ বিশ্বাস ছিল—তারা তাদের বাবার মতোই মানবিক ও দেশপ্রেমিক হবে।”

ছেলে তপু রায়হান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের ছোট ছেলে তপু কখনো বাবাকে দেখেনি। কিন্তু তার মধ্যে আমি জহির রায়হানের প্রতিচ্ছবি দেখি। সে সুযোগ পেলেই মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তাই তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে আমি আনন্দিত। জয়-পরাজয় বড় নয়, মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড়।”

ঢাকা-১৭ আসনের উন্নয়ন ভাবনা প্রসঙ্গে সুচন্দা জানান, “গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট, শাহজাদপুর, ভাসানটেক ও মহাখালী এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা আছে। আমি দেখেছি, সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো প্রায় একই—বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

এদিকে তপু রায়হান জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নন, বরং স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হচ্ছেন। তাঁর ইশতেহারের নাম দিয়েছেন ‘ঐকমত্যের ইশতেহার’। তিনি বলেন, “প্রথাগত রাজনীতি নয়, সহযোগিতার রাজনীতি গড়ে তুলতে চাই। আমার বাবা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন, তবে কোনো দলের সদস্য ছিলেন না। তাঁর মানবতাবাদী সমাজের স্বপ্ন নিয়েই আমি রাজনীতিতে এসেছি।”