প্রকৃতির কোলে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা

প্রকৃতির কোলে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা মানে যেন নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। শহরের কোলাহল, যানজট, শব্দদূষণ আর অবিরাম ব্যস্ততার ভিড়ে আমাদের মন অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একঘেয়ে রুটিন থেকে বেরিয়ে তখন মন চায় একটু শান্তি, নিস্তব্ধতা আর স্বস্তির ছোঁয়া। এই শান্তি খুঁজে পাওয়ার জন্য প্রকৃতির কাছেই যেন সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। পাহাড়, নদী আর সবুজ বনভূমি যখন চারপাশ ঘিরে রাখে। তখন মনে হয় সব ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই দূর হয়ে গেছে।
ঠিক এমনই এক জায়গার নাম ‘হোয়াইটপিক স্টেশন’। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদী, ঝিরিপথের কলকল ধ্বনি আর রাতের আকাশভরা তারা। সব মিলিয়ে এটি যেন প্রকৃতিপ্রেমী আর অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গীয় ঠিকানা। এখানে পৌঁছাতে হলে শুরুতেই রয়েছে রোমাঞ্চকর নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। নদীপথে চলতে চলতে দুই পাশে যখন সবুজ পাহাড় দিগন্তজোড়া সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়, তখন মনে হবে আপনি প্রবেশ করছেন অন্য এক জগতে।
হোয়াইটপিক স্টেশনে এসে আপনি চাইলে কাঠ ও বাঁশে তৈরি উঁচু জুমঘরে থাকতে পারেন। আবার চাইলে তারাভরা আকাশের নিচে ক্যাম্পসাইটে রাত কাটাতে পারেন। দিনের বেলা পাহাড়ি প্রকৃতি, নদীর সৌন্দর্য আর ঝিরিপথের স্নিগ্ধতা মুগ্ধ করবে। আর রাতে ক্যাম্পফায়ার, আড্ডা আর বারবিকিউর আনন্দ দেবে ভিন্ন স্বাদ। এখানে নেই শহরের নেটওয়ার্কের কোলাহল। আছে শুধু প্রকৃতির নীরবতা। যা আপনার মনকে করবে আরও সতেজ ও উচ্ছ্বসিত।

থাকার ব্যবস্থা
হোয়াইটপিক স্টেশনে বর্তমানে কয়েক ধরনের জুমঘর ও ক্যাম্পসাইট রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
প্রিমিয়ার জুমঘর ১ ও ২
সম্পূর্ণ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি উঁচুতে দাঁড়ানো ঐতিহ্যবাহী জুমঘর। ভেতরে রয়েছে প্রশস্ত জায়গা, যেখানে পরিবার বা বড় গ্রুপ নিয়ে আরামে থাকা যায়। বারান্দায় দাঁড়ালেই দেখা যায় সবুজ পাহাড়ের বিস্তীর্ণ সৌন্দর্য আর বয়ে যাওয়া নদীর মনোরম দৃশ্য। ভোরের কুয়াশা ও সন্ধ্যার সূর্যাস্ত এখান থেকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। ৮ জন থাকার ব্যবস্থা থাকবে। ভাড়া পরবে ৩৫০০ টাকা। প্রতিজনের জন্য আলাদা বেড, বালিশ ও কম্বল থাকবে।
রেগুলার জুমঘর ১
মাঝারি আকারের, আরামদায়ক তবে সাদামাটা ডিজাইনের ঘর। ঘর থেকে সরাসরি দেখা যায় নদীর ধারে ছোট পথ আর চারপাশের ঝিরিপথ। প্রকৃতির শব্দ, পাখির ডাক আর নির্জন পরিবেশ যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য একেবারে উপযুক্ত। ৬ জন থাকার ব্যবস্থা থাকবে। ভাড়া পরবে ২৫০০ টাকা।
রেগুলার জুমঘর ২
রেগুলার ১-এর মতো আরামদায়ক, তবে অবস্থান কিছুটা ভিন্ন জায়গায়। জানালা খুললেই চোখে পড়বে সবুজ বন আর দূরের পাহাড়ের সারি। পাখির গান আর হালকা বাতাসে মন ভরে যাবে, এখানে থাকলে মনে হবে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছেন। ৬ জন থাকার ব্যবস্থা থাকবে। ভাড়া পরবে ২৫০০ টাকা।
পড হাউজ জুমঘর ১ ও ২
আধুনিক ডিজাইনের ছোট্ট কাঠের ঘর, দেখতে অনেকটা টানেল বা পডের মতো। দরজা খুললেই সামনে নদীর ধারা আর পাশে ঘন সবুজ পাহাড়। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় এখানে বসে ক্যাম্পফায়ার আর বারবিকিউ করলে আনন্দের মাত্রা বেড়ে যায় অনেক গুণ। ৬ জন থাকার ব্যবস্থা থাকবে। ভাড়া পরবে ২৫০০ টাকা।
তাবু বুকিং
– জনপ্রতি ১২০০ টাকা (১ রাত + ৩ বেলা খাবার)
– সর্বনিম্ন ২ জন থাকার শর্ত
– প্রতিটি তাবুতে বালিশ ও কম্বল থাকবে
খাবার ব্যবস্থা
সকাল: চিকেন খিচুড়ি, ডিম কারি
দুপুর: ভাত, ডাল, ভর্তা, দেশি মুরগি/মাংস
সন্ধ্যা: মুড়ি মাখা বা চা-বিস্কুট
রাত: বারবিকিউ, পরোটা বা ভাত (গ্রুপের চাহিদা অনুযায়ী)
৩ বেলা খাবার ও নাস্তার খরচ জনপ্রতি ৮৫০ টাকা।
যাতায়াত
* ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী বাসে নামতে হবে চকরিয়া পুরাতন বাস স্টেশনে।
* সেখান থেকে সিএনজিতে মানিকপুর পুরাতন বাজার।
* মানিকপুর থেকে বোটে ৩০-৪০ মিনিটের নদীপথ পেরিয়ে পৌঁছানো যাবে হোয়াইটপিক স্টেশনে।
প্রকৃতির কোলে সময় কাটানো মানেই শুধু ভ্রমণ নয়, বরং মনের শান্তি খুঁজে পাওয়া। হোয়াইটপিক স্টেশনের জুমঘর কিংবা তাবুতে রাত কাটানো মানে পাহাড়ি বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়া। নদীর শব্দে ঘুমিয়ে পড়া আর পাখির ডাক শুনে জেগে ওঠা। এখানে নেটওয়ার্কের ভিড় নেই, আছে শুধুই প্রকৃতির নিরব ছোঁয়া। তাই ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে, নতুন করে নিজেকে খুঁজে পেতে হোয়াইটপিক হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।



