“রোয়াংছড়ি থেকে দেবতাখুম” এক সাহসী পদযাত্রা

বর বাসায় এসে কয়েকটা জয়াগার নাম বলে বললেন,কোথায় বেড়াতে যেতে
চাই।পরিবারের সবাই মিলে অনেক আলাপ আলোচনার পর ঠিক হলো বান্দরবান
যাবো।পাহাড়,নদী ও ঝর্ণার মিলনে অপরূপ সুন্দর বান্দরবান জেলা। অমনি ঠিক
হয়ে গেলো দিনক্ষণ। কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।সময় হাতে বেশি
নেই।কেনাকাটা শেষে সবার ব্যাগ গোছানো হয়ে গেলো।বাকি রইলো টফি
(বিড়ালটা)।ওকে হোস্টেলে পাঠাতে হবে যাবার দিন দুপুরে, রাতে বাস।যথারীতি
তাই হলো।ওকে হোস্টেলে রাখতে দু'ভাইবোন রওনা হলো।এলো মুখ কালো
করে।ভাবলাম বোধহয় খারাপ লাগছে টফিকে ছেড়ে এসে।মিনিট কয়েক পরেই
জানা গেলো ছিনতাইকারী দুজনের মোবাইল ই নিয়ে গেছে।বিশ্বিত হলাম।সবারই
মন খারাপ হলো।বোনের মোবাইল মাত্র কয়েক মাস আগে কেনা হয়েছিলো।ভাই-
বোন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।ভাই বেরিয়ে গেলো বন্ধুদের করো কাছ থেকে
একটা মোবাইল নিয়ে আসতে বাবার অজান্তে। যাইহোক রাত আটটায় আমরা
বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।পৌঁছে গেলাম যথাসময়ে।বেশ আগেই পৌঁছে
গেলাম ১১:৩০ এ বাস।এবার অপেক্ষার পালা শুরু হলো।ঈদের ছুটির পর
ভ্রমণ।গেস্ট রুমে বিন্দুমাত্র জায়গা নেই বসার।দাঁড়িয়ে রইলাম।একসময় নির্ধারিত
বাসের জন্য ডাক পড়লো।লাগেজ নিয়ে উঠে পড়লাম।মন থেকে কিছুতেই
যাচ্ছেনা মোবাইলগুলো হারানোর কথা।যাই হোক অন্য ভাবনায় মন
দিলাম।আয়তুল কুরসি পড়ে নিলাম।বাস চলা শুরু হলো।
কুমিল্লার কাছে একটা
ফুড কোডে বাস থামলে নেমে পড়লাম।কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে দেখি বরের
সিটটা পিছনের সীটের উপরে পড়ে আছে। সুপারভাইজারকে ডাকলাম।একটু
পরে সে কোত্থেকে যেনো একজন মেকানিক নিয়ে এলো।অল্প সময়ের মধ্যেই ঠিক
হয়ে গেলো সীট।আমি বোকার মতো ছোট একটা ট্রাভেল ব্যাগের উপরে
হ্যান্ডব্যাগটা রেখেই চলে গিয়েছিলাম।মুহূর্তেই মনে পড়লো, ব্যাগে তো টাকা
আছে।চেক করে দেখলাম এক টাকাও নেই সেখানে।বুঝে নিলাম সীট ভাঙার
কারণ। সুপারভাইজারকে ডাকলাম,বললাম টাকা হারানোর কথা। সে একটু
রেগেই গেলো।নিয়মানুযায়ী আমারই ভুল হয়েছে এজন্য আর কিছু বললাম
না।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ করে আবার যাত্রা শুরু করলাম।সকাল ৬ টায় পৌঁছে
গেলাম হোটেল হলিডে ইন এ।নাস্তা করলাম। যেহেতু ১১:৩০ টার আগে রুম
পাবোনা,ঠিক হলো লাগেজ ওরা রুমে দিয়ে দিবে।আমরা শহর থেকে রোয়াংছড়ি
এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম।ওখান থেকে কচ্ছপতলী আর্মিক্যাম্প পর্যন্ত যেতে
হবে এবং সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে এগোতে হবে।খুব কাছ থেকে উপভোগ
করতে এবং প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে চাইলে দেবতাখুম পারফেক্ট
জায়গা।চান্দের গাড়ীতে উঠে পড়লাম।ঝকঝকে রোদ,ব্যাগ থেকে ক্যাপ বের করে
উল্টোদিক করে মাথায় দিতেই বাতাসে উড়ে পড়লো রাস্তায়।চেয়ে চেয়ে দেখলাম
বাইরে থেকে আনা চমৎকার রঙিন ক্যাপটা রাস্তার মাঝখানে পড়ে আছে চান্দের
গাড়ি তার নিজস্ব গতিতে উড়ে চলছে।
"দেবতাখুম" বান্দরবান জেলায় রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত।বান্দরবানের
স্থানীয়দের মতে এটি প্রায় ৬০/৭০ ফুট গভীর এবং প্রায় ৬০০ ফুট দীর্ঘ।দুইপাশে
সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝে ফাটলে সিপ্পি পাহাড় থেকে পানি নেমে এসে এখানে জমা
হয়ে তৈরি হয়েছে দেবতাখুমের। বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ি
এলাম।ওখানের আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে এগিয়ে চললাম।রাস্তার দুপাশে
প্রচুর সবুজ তামাক ক্ষেত দেখতে পেলাম।গাড়ি চলতে থাকলো।এরপর লিরাগাঁও
আর্মিক্যাম্প থেকে ২ বার গাইড সহ গিয়ে অনুমতি নিয়ে খুমের দিকে এগিয়ে
চললাম।আমাদের গাইডের নাম ছিলো মোহাম্মদ। কচ্ছপতলীর বাজারে এসে
চান্দের গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে পাহাড় কিংবা ঝিরি পথের দেবতাখুমের দিকে
যাত্রা শুরু করলাম। দেবতাখুম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি স্থান।এই খুমের
মূল আকর্ষন হলো এর স্বচ্ছ পানি, খাঁড়া পাহাড় এবং গহীন অরণ্যের মাঝে
লুকিয়ে থাকা রহস্যময় পরিবেশ। সূর্যের আলো কম পৌছানোর কারণে এটি এক
ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেয়,যা প্রকৃতিপ্রেমী ও আ্যাডভেন্ঞ্চারপ্রেমীদের জন্য
একটা অসাধারণ গন্তব্য।"খুম"শব্দের অর্থ জলাধার।যার পানি কখনো শুকায়না।
খুমের দুইপাশে বিশাল সবুজ পাহাড় এবং মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ পানির
ধারা এখানকার মূল আকর্ষন।এখানকার পানির স্বচ্ছতা এতবেশী যে এর নীচে
থাকা পাথরের গঠন স্পষ্ট দেখা যায়, যা এক অসাধারণ অনুভূতি দেয়।এটি
খালের একটি অংশ।উঁচু উঁচু পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তারাসা
খাল।রোয়াংছড়ি বাজার থেকে নেমে সেই খাল ধরেই আমরা হাঁটছি।
নি:শব্দ পাহাড়ি প্রকৃতি।ঘণ্টাদেড়েক হাঁটার পর দেবতাখুমের সবচেয়ে কাছের মারমাদের
পাড়ায় পৌঁছি নাম "শীলবান্ধা পাড়া"।পাড়ার মধ্য দিয়ে হেঁটে চললাম ওদের জীবন
যাপন দেখতে দেখতে।ওদের বাড়ি-ঘর, পোশা প্রাণী,খাদ্য ভাণ্ডার ইত্যাদি।খেয়াল
করলাম ওরা কারো সাথে কথা বলতে আগ্রহী নয়।এভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
দেখতে দেখতে কখনো সমতল ভূমি, কখনো উচঁনিচু দূর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে
এগিয়ে চললাম।প্রবল স্রোতের খাল হেঁটে পার হয়ে একজায়গায়
পৌঁছালাম।ভিজে গেছে কোমর পর্যন্ত।পানিতে পাথর আর পাথর।পা ঠিকমতো
ফেলতে পারছিলামনা স্রোতের কারণে। পানি পথে বারবার গতি কমে
আসছিলো।এই তারাসা খালের উৎপত্তি হচ্ছে সিপিল আরসুয়াং পাহাড়।যা
দেবতাখুম হয়ে এইদিকে এসে কচ্ছপতলী পার হয়ে সামনের দিকে চলে
গেছে।সূর্যের তাপ ছিলো প্রখর।ছাতা মাথায় দিয়েও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছিল না।প্রচণ্ড
গরমে ঠান্ডা পানি খুব ভালো লাগছিলো।আবার হাঁটা শুরু করলাম।অনেকটা পথ
হেঁটে এগুলাম।চলার পথে ক্লান্তি দূর করে আমাদের মন ভরিয়ে দিল লাল-সবুজের
পাহাড়ি ফুল।আমাদের সাথে অনেকে চলছে।বেশির ভাগই ইয়াং
ছেলেপুলে।।এভাবে অনেক পথ পার হয়ে একজায়গায় থামলাম।কয়েকটা ছবি
তুললাম।গাইড বলল,এখান থেকে টিকিট কেটে নৌকায় উঠে শেষ পর্যন্ত যেতে
হবে।প্রচণ্ড রোদ,বিপদজনক পথ পার হয়ে এতখানি এসে ক্লান্ত হয়ে
পড়েছি।আমরা ঠাণ্ডা পানি খেলাম।টিকিট দিলো যে লোকটা বরকে বেশ সমীহ
করলো।কিছু প্রয়োজনীয় টিপস দিয়ে দিলো।আমরা আবার যাত্রা শুরু
করলাম।যেতে যেতে নদীর ধারে এক জায়গায় এসে থামলাম।পাথর ফেলে
পারাপারের পথ করা। আমরা ঐ পথে যেতে পারবোনা তাই নৌকা নিলাম।পৌঁছে
গেলাম ওপারে।নৌকা থেকে নেমে আবার কিছুটা পাথুরে পথ হেঁটে পৌঁছে গেলাম
আমাদের মূল গন্তব্যে দেবতাখুমে।দেখলাম বাঁশের ভেলা নিয়ে কায়াকিং করে
দেবতাখুমে পাড়ি দিচ্ছে পর্যটকরা।
এখন অপেক্ষা নৌকায় ওঠার।এখানে অসম্ভব ভাবে সিরিয়াল মেইনটেইন
হয়।গাইড সবসময়ই সাথে থাকে।শুরু হয়ে গেলো বৃষ্টি। শতশত লোক। সবাই
ভিজছে।আমরা একটা টং দোকানের শেডের নীচে দাঁড়ালাম। কাজ হলো না
ভিজে গেলাম।ভিজতে ভালোই লাগছিলো।বর একটু পরে ডিমসেদ্ধ, কলা নিয়ে
এলো খেলাম।অনেক বৃষ্টি, থামছেই না।প্রায় ঘণ্টাখানেক পর আমাদের সিরিয়াল
এলো।আমরা নৌকায় উঠলাম।ওঠার আগেই চানাবুট কিনে নিয়েছিলাম।সবাই
লাইফ জ্যাকেট পরে নিলাম।পানি একেবারে ফুলে উঠেছে।ভয়ংকর রূপ।আমি
ভীষণ ভয় পেলাম। ফিরবার কথা মনে হলো।শুরু হলো দেবতাখুমের আসল
সৌন্দর্য দেখার যাত্রা। আবারও আয়তুল কুরসি পড়ে নিলাম।একটা বাঁক পার হয়ে
নৌকাটা একসময় লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে গেলো।দেখা হলো অন্যান্য ভেলা
এবং নৌকার যাত্রীদের সাথে। আমরা যখন রওনা হয়েছি তখনি ভেলা ছাড়া বন্ধ
করে দিয়েছে আবহাওয়ার অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায়।আমাদের নৌকার মাঝি
চিৎকার করে পাহাড়ি ঢলের ভয়ংকর রূপের বিপদ সম্পর্কে বিশেষ করে ভেলার
যাত্রীদের সতর্ক করার চেষ্টা করে যাচ্ছিল।কিন্তু কেউ শুনছিলো না।আমরা ভয়
পাচ্ছিলাম খুব।খুমের দুইপাশে রয়েছে বিশাল জঙ্গল। খাড়া পাহাড়ের কারণে
খুমের ভিতর সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না।তাই খুমের ভিতরে যত যাচ্ছি
ততই শীতল মনে হচ্ছে।খুমের দুপাশের বিশাল জলধারা এবং খাড়া পাহাড় এর
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।গহীন অরণ্যের মাঝে
লুকিয়ে থাকা একটি প্রাকৃতিক বিস্ময়, যা অপার মুগ্ধতা নিয়ে দেখলাম।মুহূর্তেই
মন থেকে ভয় চলে গেলো।চানাবুট খেলাম।শুনশান নিরবতায় নিজেদের কথার
প্রতিধ্বনি শুনলাম আর নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ ছন্দের মতো মনে
হচ্ছিল। খুমের ভেতর কোথাও বড় বড় পাথরে ভেলা আটকে পড়ে আবার
কোথাও শতফুট গভীরতা কিছুটা গা ছমছমে পরিবেশ তৈরি করেছে।তাই বেশ
রোমাঞ্চকর। দেবতা খুমের শেষ প্রান্তটা ক্রমান্বয়ে সরু হয়ে এসেছে।সরু পথ
একসময় বাঁ দিকে বেঁকে গেছে। দুদিকের খাঁড়া দেয়াল বেশ কাছাকাছি বলে
এখানটায় বেশ কিছুটা ভয়ও লাগে।মাঝি বলল,এটাই দেবতা খুমের শেষ প্রান্ত,
সামনে আর নৌকা দিয়ে এগোনো যাবেনা।নৌকা ভাসিয়ে যত ভেতরে যাওয়া যায়
গিয়ে প্রকৃতির এক ভয়ংকর ও সুন্দর রূপ আবিষ্কার করে ফেরবার পথ
ধরলাম।সারাপথ মাঝি ভেলা এবং নৌকার যাত্রীদের সাবধান করতে করতে
এলো, ফিরে যেতে বলল।আমরা স্পটে এসে নৌকা ছাড়লাম।পানি এতো বেড়ে
গেছে যে হেঁটে এগুতে পারলাম না। নৌকা নিলাম।গাইড একটা ঝর্ণা দেখার কথা
বলল।নাম শীলবাঁধা ঝর্ণা।রওনা হয়ে গেলাম। মারাত্মক অবস্থা পথের।বৃষ্টি হয়ে
মানুষের যাওয়া আসায় একদম পিচ্ছল হয়ে গেছে।একপ্রকার জীবন বাজি রেখে
যাত্রা শুরু করলাম।ঝর্ণার একদম কাছে যেতে পারলাম না।দূর থেকে দেখলাম
ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য।যা এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে
বহুগুণে।শুরু হলো আবার হাঁটা।এক জায়গায় এসে পৌঁছালাম, দেখলাম ১০
ইন্ঞ্চি মতো সমতাল জায়গা চওড়া ওখান থেকে হেঁটে আসতে হবে।মেয়ে কিছুতেই
পারলো না।ওর বাবাও ওকে উঠাতে পারলো না।শেষে ছেলেপুলে মিলে ওকে
ওঠানো হলো।আমরা খুব বিপদে পড়ে গেলাম।মেয়ে ভারি হওয়ায় একেবারেই
নরমালি হেঁটে নামতে পারছিলো না কোনো জায়গা থেকে।ও বসে বসে ছেঁচড়ে
ছেঁচড়ে নামছিলো।জামা কাপড় একদম নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।এবার এলাম পানির
কাছে। যে পথ পাড়ি দিয়ে গেছিলাম।পানি প্রায় বুক পর্যন্ত হয়ে গেছে।কোনোমতে
আমরা পার হলাম।মেয়ে কিছুতেই পা ফেলতে পারছে না।নীচে পাথর আর পানির
প্রচণ্ড স্রোতের কারণে।ওর বাবা অনেকক্ষনের চেষ্টায় কোনোমতে ওকে এপাড়ে
আনলো।দেখলাম পাথরে তার পায়ের পাতা, হাঁটু ছিলে রক্ত বের হচ্ছে। মনটা
খারাপ হয়ে গেলো।আরও অনেক পথ যেতে হবে ভেবে ভয় হোল।আমরা পায়ে
চলা পথ দিয়ে ঠিকমতো চলতে পারছিলাম না।অসম্ভব খারাপ অবস্থা ছিলো
পথের।গাইড বুঝতে পারলো যে পথ দিয়ে এসেছি সে পথে ফেরা অসম্ভব। সে
ঠিক করলো নৌকায় ওঠার।প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌকা সব উঠে যাচ্ছে।
দুইটা নৌকা নিতে রাজি হলো না।গাইড বলল, টাকা দিবে টাকা।তারপর একটা
কোনোমতে রাজি হলো।খালের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।আমরা
নৌকায় উঠলাম।ইন্ঞ্জিনের নৌকা।একটু কিছুদূর যাওয়ার পর একটা ঘূর্ণির মধ্যে
নৌকা পড়লো।পানি এসে আমাদের সবাইকে ভিজিয়ে দিলো।আমরা ভাবলাম
এবার বুঝি আর বাঁচবোনা।দুজন সাঁতার পারি।দুজন পারেনা।সাঁতার জানলেও
ওখানে করার কিছু নেই।স্রোত টেনে নিয়ে যাবে।এভাবে আরও দুদুবার এমন
পরিস্থিতিতে পড়ে অবশেষে নৌকা এসে পৌঁছালো গন্তব্যে। আমরা নামলাম।জামা
কাপড় একদম ভেজা।সবাই চুপ করে আছি।কেউ কথা বলছেনা।এভাবেই উঠলাম
চান্দের গাড়িতে।এসে পৌঁছালাম হোটেলে।আগে থেকেই বুকিং দেয়া ছিলো।শরীর
থেকে পানি পড়ছে।বৃষ্টি তখনও পড়ছে।আমার ব্যাম্বুচিকেন, আলুভর্তা, সবজি,
ডাল,সালাদ সহকারে ভাত খেলাম।ড্রাইভার, গাইড সবার খাওয়া শেষে
বান্দরবানের উদ্দেশ্য রওনা হলাম।ভেজা কাপড় বাতাসে গায়েই প্রায় শুকিয়ে
গেলো।পথে বাচ্চারা গাড়ির মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লো।আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম।
চান্দের গাড়ির রডের সাথে বাড়ি না খায়।গাড়ি চলছে মারাত্মক গতিতে। রাস্তার
কোনো জানবাহনকে সে পথ দিলো না।খুবই ভয় পাচ্ছিলাম।আর মনে মনে
ভাবছিলাম, জীবনে কখনো আর চান্দের গাড়িতে উঠবো না।একসময় হোটেলে
পৌঁছে গেলাম।হোটেলের রাস্তা মেইন রাস্তা থেকে অনেক উঁচুতে।বাঁক নিতেই ধাম
করে পড়ে গেলাম সীট থেকে।মাথায় ব্যাথা পেলাম কিন্তু উঠতে পারলাম
না।একেবারে গেইটের কাছে এসো উঠলাম।ড্রাইভার নেমে বলল,ম্যাডাম আপনি
কিভাবে এমনে করে পড়ে গেলেন? লজ্জায় মুখ লাল হলো।আনমনে ভাবনা
চলতে থাকলো। আজকের সারাদিনের সব ঘটনা মনে পড়তে থাকলো।নানা
ঘটনায় জর্জরিত অবাধ্য মন মুহূর্তেই মেনে নিতে বাধ্য হলো দিনটা মন্দ
কাটেনি।স্মৃতির পাতায় আরও একটা সুন্দর সময় যোগ হলো এক রোমাঞ্চকর
অভিজ্ঞতা নিয়ে।


