নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে আস্থার সংকট দূর করতে হবে — রাশেদা কে চৌধূরী

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নারীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দেশে এখনো আস্থার সংকট বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী।
আজ সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রাজনৈতিক দলের কাছে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “অনেকেই বলছেন— ভোট না দিলেও হয়, কিন্তু ভয় এই যে আমার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দেবে না তো? এই যে মানুষের মনে আস্থার সংকট, সেটিই আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা জরুরি। “দলগুলো যদি নারীর প্রার্থিতা ও অংশগ্রহণে সত্যিকারের অঙ্গীকার না দেখায়, তাহলে নারী এগিয়ে যেতে পারবে না। অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব সব সময় নারীদের প্রান্তিক করে দিয়েছে।”
নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, নির্বাচন–পূর্ব ও নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে নারীরা সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হন। তাই সব রাজনৈতিক দলের উচিত এই বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
দুর্নীতি দমন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা সম্ভব, যদি বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।”
তিনি উল্লেখ করেন, নারীরাই দেশে সবচেয়ে বেশি বিচারহীনতার শিকার। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা রাস্তাঘাটে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও তারা ন্যায়বিচার পান না।
আগামী সরকারের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, “মানসম্মত শিক্ষা ও সুশাসন— এই দুটি বিষয় আগামী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”
গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি, এবি পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, একশনএইড, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।



