অনার্সে মাত্র ২.৬২, তবুও আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেন কথা

বিদেশে পড়াশোনা—স্বপ্নটা অনেকেরই থাকে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নানা বাস্তবতা। বিশেষ করে অনার্সের সিজিপিএ অনেক সময় হয়ে ওঠে বড় প্রতিবন্ধক। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইয়ামীমা তাসনিম কথা সেই সীমাবদ্ধতার দেয়াল ভেঙে দেখিয়েছেন, পরিশ্রম ও লক্ষ্য থাকলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।
গণিত বিভাগ থেকে ২০১৮ সালে স্নাতক ও ২০২০ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন কথা। তাঁর অনার্সের সিজিপিএ ছিল মাত্র ২.৬২—যা বিদেশে পড়াশোনার পথে সাধারণত কঠিন বাধা হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু সেই ফলাফল তাঁকে থামাতে পারেনি। গবেষণার আগ্রহ থেকেই তিনি এগিয়ে যান নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে।
কথা জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন এক মেডিকেল সেমিনারে অংশ নেওয়াই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেখানে প্রথমবার তিনি পাবলিক হেলথ রিসার্চ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিতে দিতেই, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ভর্তি হন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (AIUB)—মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (MPH) প্রোগ্রামে।
তবে সেই শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। কথা বলেন, “প্রথমদিন ক্লাসে গিয়ে দেখি আমি ছাড়া সবাই চিকিৎসক, আর আমিই সবচেয়ে ছোট। শিক্ষক যখন সবার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে চান, আমি বলি—‘আমি গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছি।’ সবাই অবাক হয়ে যায়—গণিত থেকে পাবলিক হেলথ কেন?”
প্রথম সেমিস্টারটাকে বলেন, ‘ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’। কারণ, সব কোর্সই ছিল মেডিকেল-ভিত্তিক—রোগের ধরন, সিন্ড্রোম, ওষুধের ডোজ ইত্যাদি। সেখানে গণিতের ছোঁয়া ছিল কেবল একটি বিষয়েই—বায়োস্ট্যাটিস্টিকস। কিন্তু সেই একটি বিষয়েই তিনি খুঁজে পান নিজের জায়গা।
“সবাই ক্যালকুলেশনকে কঠিন মনে করত, কিন্তু আমার কাছে সেটা ছিল সহজ। আমি সেই বিষয়ে সহপাঠীদের সাহায্য করতাম, তারা আবার অন্য মেডিকেল বিষয়গুলোয় আমাকে সহায়তা করত,” বলেন কথা।
এই পারস্পরিক শেখা-শেখানোই ধীরে ধীরে তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন তিনি। আর সেই পথ ধরেই আজ তিনি পৌঁছে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে—উচ্চতর পড়াশোনার নতুন যাত্রায়।
কথার গল্প প্রমাণ করে, সিজিপিএ নয়—দৃঢ় মনোভাব, কঠোর পরিশ্রম ও শেখার আগ্রহই পারে জীবনের সীমা ছুঁয়ে দিতে।



