বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
ভ্রমণ

বিশ্বের বিখ্যাত শপিং স্ট্রিট কোনগুলো

images

শপিং সাধারণত প্রয়োজনে হলেও অনেকের শখ থাকে শপিংয়ের। সেই শপিংয়ের জন্য বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোর কিছু রাস্তা বিখ্যাত। এই রাস্তাগুলো শুধু কেনাকাটার জায়গা নয় এগুলো একেকটা সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জীবনধারার প্রতীক। এসব স্ট্রিটে মানুষের ভিড়, আলো, রঙ, ফ্যাশন আর শহরের ছন্দ এক হয়ে যায়। সেখানে কেনাকাটা যেমন আনন্দের তেমনি হাঁটাহাঁটি করাটাও যেন এক অনন্য অভিজ্ঞতা। চলুন, জেনে নিই বিশ্বের কয়েকটি বিখ্যাত শপিং স্ট্রিট সম্পর্কে যেখানে প্রতিটি মোড় ফ্যাশন আর ইতিহাসের গল্প বলে।

অরচার্ড রোড, সিঙ্গাপুর  – সিঙ্গাপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অরচার্ড রোড শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় শপিং গন্তব্য। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তায় একের পর এক মল, ডিজাইনার বুটিক, রেস্টুরেন্ট আর বিনোদনের জায়গা। এখানে বিখ্যাত ION Orchard এর আটটি তলায় আছে তিনশোর বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড গুচি, ডিওর, ভ্যালেন্টিনো, এইচঅ্যান্ডএম, সেফোরা যা চমকিত করবে যেকোনো ক্রেতাকে।

গিনজা, টোকিও (জাপান) –  টোকিওর ফ্যাশনপ্রেমীদের স্বর্গ বলা হয় গিনজাকে। এখানে আরমানি, শ্যানেল, ডিওর, সোয়ারোভস্কি সব বড় ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর রয়েছে। পুরোনো ওয়াকো ডিপার্টমেন্ট স্টোরটি এখানকার ঐতিহ্যের প্রতীক। সপ্তাহান্তে গিনজা শুধুই পথচারীদের জন্য খোলা থাকে তখন এটি হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত উৎসবের রাস্তা।

মিয়ংডং, সিউল (দক্ষিণ কোরিয়া)  – নিয়ন আলোয় আলোকিত মিয়ংডং যেন ফ্যাশন ও কসমেটিকস প্রেমীদের রাজ্য। এখানে প্রতিদিন দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ঘুরে বেড়ান। স্থানীয় কোরিয়ান ব্র্যান্ড থেকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস সবই আছে। আর রাস্তার পাশে ছোট ছোট খাবারের দোকান এই অভিজ্ঞতাকে আরও রঙিন করে তোলে।

বন্ড স্ট্রিট, লন্ডন (যুক্তরাজ্য) –  আঠারো শতক থেকে অভিজাতদের প্রিয় কেনাকাটার জায়গা বন্ড স্ট্রিট। আজও এখানে আরমানি, বারবেরি, শ্যানেল, হার্মিসের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের স্টোর রয়েছে। উৎসবের মৌসুমে যখন রাস্তা আলোয় ঝলমল করে তখন একবার ঘুরে না এলে লন্ডন ভ্রমণই অসম্পূর্ণ থাকে।

রু দে রিভোলি, প্যারিস (ফ্রান্স)  – নেপোলিয়নের শাসনামলে নির্মিত এই রাস্তায় ইতিহাস ও ফ্যাশনের নিখুঁত মিশ্রণ। এক প্রান্তে লুভর মিউজিয়াম অন্য প্রান্তে সেফোরা, জারা, এল’অক্সিটন, প্রমডের মতো জনপ্রিয় স্টোর। এখানে হাঁটতে হাঁটতে প্যারিসের ক্লাসিক সৌন্দর্য আর আধুনিক রুচির মিল পাওয়া যায়।

স্ট্রোজেট, কোপেনহেগেন (ডেনমার্ক)  – ইউরোপের দীর্ঘতম পথচারী শপিং স্ট্রিট স্ট্রোজেট। এখানে প্রাডা, লুই ভিটন, মালবেরির মতো হাই-এন্ড ব্র্যান্ডের পাশাপাশি আছে ড্যানিশ ডিজাইনারদের বুটিক। পুরোনো স্থাপত্য আর আধুনিক স্টোর দুটোই একসঙ্গে উপভোগ করা যায় এখানে।

ফ্রিডরিখস্ট্রাসে, বার্লিন (জার্মানি)  – বার্লিন প্রাচীর ভাঙার পর এই রাস্তাই নতুন ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। এখন এখানে হুগো বস, কার্ল লেগারফেল্ড, ম্যাক্স মারা’র মতো নামকরা ফ্যাশন হাউসের স্টোর। ইতিহাস আর স্টাইল একসঙ্গে ছুঁয়ে যাবে আপনাকে।

ভিয়া দেল করসো, রোম (ইতালি)  – রোমের অন্যতম পুরোনো রাস্তা এটি যা এখন ফ্যাশনের আধুনিক কেন্দ্র। পিয়াজ্জা ভেনেজিয়া থেকে পিয়াজ্জা দেল পোপোলো পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথে সারি সারি ইতালীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দোকান। ঐতিহাসিক ভবন আর আধুনিক সাজসজ্জায় রোমের সৌন্দর্য এখানে অন্য মাত্রা পায়।

ফিফথ অ্যাভিনিউ, নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র)  – বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত শপিং রাস্তা বলা হয় ফিফথ অ্যাভিনিউকে। এখানে আছে টিফানি অ্যান্ড কো, কার্টিয়ে, লুই ভিটন, স্যাক্স ফিফথ অ্যাভিনিউর মতো লাক্সারি ব্র্যান্ড। আর আশপাশে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ও রকফেলার সেন্টারের মতো আইকনিক স্থাপনাও রয়েছে যা পুরো অভিজ্ঞতাটিকে করে তোলে আরও জাঁকজমকপূর্ণ।

পিট স্ট্রিট মল, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)  – মাত্র দুটি ব্লকজুড়ে বিস্তৃত হলেও এটি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় শপিং হাব। এখানে ৬০০-র বেশি ব্র্যান্ডের দোকান জারা, ইউনিক্লো, এইচঅ্যান্ডএম সহ আরও অনেক কিছু। রাস্তার পাশে ক্যাফে, সঙ্গীত, স্ট্রিট পারফর্মার সব মিলিয়ে পুরো জায়গাটা যেন জীবন্ত উৎসবের মতো।

শপিং মানেই শুধু পণ্য কেনা নয়। এটি একধরনের অভিজ্ঞতা। অরচার্ড রোডের আধুনিক আলো, গিনজার ঐতিহ্য, প্যারিসের আভিজাত্য বা নিউইয়র্কের ঝলকানি সবই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাশন ও সংস্কৃতি আসলে একে অপরেরই পরিপূরক।  আপনি হয়তো ভ্রমণে যাচ্ছেন বা শুধু স্বপ্ন দেখছেন। এই শপিং স্ট্রিটগুলোর গল্প আপনাকে ঘুরে বেড়াতে অনুপ্রাণিত করবেই।