বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

আঠালো খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ৬ কার্যকর উপায়

1-ZM1034418

‘খুশকি’ নামক ছোট্ট সমস্যাই কত বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠে তা বলা বাহুল্য! চুলে সাদা গুঁড়োর মতো খুশকি উড়ছে, মাথা ভারী লাগছে, চুল তেলতেলে হয়ে যাচ্ছে এমন সমস্যা অনেকেরই। কেউ ভাবে এটি শুধু তেল জমে থাকার ফল। কিন্তু আসলে তেলতেলে ও আঠালো খুশকি এক ধরনের বিশেষ সমস্যা, যেটির যত্ন নিতে হয় নিয়মিত ও সঠিকভাবে।

ভারতের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অমিত ভাসিন বলেন, “তেলতেলে খুশকি মূলত মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল আর একধরনের ছত্রাকের সংমিশ্রণ। এতে ত্বক শ্বাস নিতে পারে না, ফলে চুলও দুর্বল হয়ে পড়ে।” তাহলে এই বিরক্তিকর আঠালো খুশকি থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে? দেখে নিন ছয়টি সহজ ও কার্যকর উপায়।

সঠিক অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু বেছে নিন খুশকি দূর করতে শুধু সাধারণ শ্যাম্পু নয়, এমন শ্যাম্পু দরকার যেটি ছত্রাকনাশক ও তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। খেয়াল রাখুন, শ্যাম্পুতে যেন থাকে।

পাইরোকটন ওলামিন – ছত্রাকনাশক উপাদান যা খুশকির মূল কারণ মালাসেজিয়া ব্যাকটেরিয়াকে দমন করে।

অ্যাকটিভেটেড চারকোল – মাথার ত্বক থেকে তেল ও ময়লা টেনে নেয়, কিন্তু আর্দ্রতা নষ্ট করে না।আর্দ্রতা বা গরমে চুল ধোয়ার ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানঘাম, ধুলো আর তেল মিলে খুশকি দ্রুত বাড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত ৩ বার চুল ধোয়া উচিত। ব্যায়াম বা বাইরে থেকে ফেরার পর চুল ধুয়ে ফেলুন। খুব গরম নয়, কুসুম গরম বা ঠান্ডা পানিতে চুল ধোয়া ভালো। পরিষ্কার মাথার ত্বকই খুশকি প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।

‘ডাবল রিন্স’ পদ্ধতিতে শ্যাম্পু করুন

অনেক সময় শ্যাম্পুর অবশিষ্টাংশই খুশকি বাড়ায়। তাই দুই ধাপে চুল ধোয়ার অভ্যাস করুন। প্রথম ধাপে হালকা শ্যাম্পু করে তেল ও ময়লা তুলুন। দ্বিতীয় ধাপে অল্প শ্যাম্পু নিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে মাথার ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হবে এবং আঠালো খুশকি জমবে না।

তেল ও সেরাম ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

তেলতেলে খুশকির সময় অতিরিক্ত তেল দেওয়া উল্টো ক্ষতি করতে পারে। কারণ ছত্রাক তেলের মধ্যেই বাড়ে। তাই সপ্তাহে একবার হালকা তেল ব্যবহার করুন।রাতভর তেল রেখে ঘুমাবেন না। তেল দেওয়ার পর সকালে ভালোভাবে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

ভারী জেল, ওয়্যাক্স বা ক্রিম ব্যবহার এড়িয়ে চলুনচুল সাজাতে ব্যবহৃত ভারী হেয়ার জেল বা ওয়্যাক্স মাথার ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। এতে তেল ও মৃত ত্বককোষ জমে খুশকি বাড়ে। পরিবর্তে ব্যবহার করুন হালকা সেরাম বা অয়েল-ফ্রি স্প্রে। স্টাইলিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে সেদিনই চুল ধুয়ে ফেলুন।

খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক যত্ন নিন

শুধু বাইরের যত্ন নয়, শরীরের ভেতর থেকেও সুস্থ হতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন – ভাজাপোড়া ও চিনি কমিয়ে ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য খান।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন – এতে ত্বক হাইড্রেট থাকে ও তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মানসিক চাপ কমান – নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান বা যোগব্যায়াম মাথার ত্বক ও চুল—দুটোই সুস্থ রাখে।

শ্যাম্পুর আগে লেবুর রস বা আপেল সিডার ভিনেগার পানির সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগালে ত্বক পরিষ্কার হয়।অ্যালোভেরা জেল মাথা ঠান্ডা রাখে ও খুশকি কমায়।টি ট্রি অয়েল শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ছত্রাকনাশক কাজ করে।

তবে নতুন কিছু ব্যবহার করার আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নিন যাতে কোনো অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া না হয়।আঠালো খুশকি একদিনে যায় না। কিন্তু নিয়মিত যত্নে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সঠিক শ্যাম্পু, পরিচ্ছন্নতা আর সামান্য সচেতনতা। এই তিনেই ফিরবে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও আত্মবিশ্বাস। কারণ মাথা পরিষ্কার থাকলে মনও থাকে সতেজ।