৫৭ লাখ টাকার সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশের ‘সুরাইয়া’

বার্লিন ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ডের জন্য ৬৩টি দেশ থেকে ২৩৬টি সিনেমার প্রকল্প জমা পড়ে। এর মধ্যে আটটি সিনেমা তহবিল পাচ্ছে। এশিয়া থেকে তহবিল পেয়েছে দুটি সিনেমা। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশের ‘সুরাইয়া’।
৪০ হাজার ইউরোর (প্রায় ৫৭ লাখ টাকা) তহবিল পাচ্ছে ‘সুরাইয়া’। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন রবিউল আলম। এর আগে চরকির ‘ঊনলৌকিক’, ‘ক্যাফে ডিজায়ার’ বানিয়ে বেশ প্রশংসা পেয়েছিলেন তিনি। সিনেমাটির প্রযোজক ফজলে হাসান। এশিয়া থেকে তহবিলের জন্য নির্বাচিত আরেকটি সিনেমা হলো কম্বোডিয়ার ‘টু লিভ টু স্টে’। এটি নির্মাণ করবেন দানেচ সান।
পরিচালক রবিউল আলম বর্তমানে নরওয়েতে রয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক একটি ফান্ড ‘ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড’। শৈল্পিক ও নান্দনিক বিচারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনাময় ছবিগুলো এখানে প্রতিযোগিতা করে। ফলে এ ফান্ড ‘সুরাইয়া’র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। নির্মাণ সহায়তার পাশাপাশি এর ফলে ছবিটির প্রতি বৈশ্বিক মনোযোগ সৃষ্টি হবে। যা ছবির বৈশ্বিক প্রদর্শন ও পরিবেশনার পথ সুগম করবে। এটা আমাদের দায়িত্বকে আরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে।’
এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেট, ফ্রান্সের থ্রি কন্টিনেন্ট ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত প্রদিউর উ স্যুদ ধর্মশালা ল্যাব এবং ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে তাসভীর ফিল্ম মার্কেটে অংশ নেয় ‘সুরাইয়া’। এবার সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হলো বার্লিন ওয়ার্ল্ড সিনেমা।
সিনেমাটির প্রযোজক ফজলে হাসান বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইন্ডি ফিল্ম (স্বাধীন ধারার সিনেমা) নিজস্ব উদ্যোগে শুরু করতে হয়। দেশ থেকে তেমন কোনো লগ্নি মেলে না; বরং নানা কথা শুনতে হয়। সেখানে বার্লিনের মতো একটি বড় জায়গা থেকে আমাদের এ সহায়তা অনেক বড় ভরসার জায়গা তৈরি করে দিল। এটা আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, আমাদের সিনেমার বৈশ্বিক শৈল্পিক মূল্য রয়েছে। এ ফান্ড আমাদের কাছে সাহসের নাম। মনে হচ্ছে, আমরা সিনেমাটি নিয়ে সঠিক পথেই রয়েছি।’
প্রযোজক আরও জানান, সিনেমা নির্মাণের জন্য তাঁরা এ সহায়তা পাচ্ছেন। একজন জার্মান প্রযোজক সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হলে এ অর্থ পাবেন।
বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বার্লিন ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ডের ৪২তম সেশনে বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের সিনেমা জায়গা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বলিভিয়া, ব্রাজিল, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, মেক্সিকো, সুদান, ইউক্রেনের সিনেমা। ৩ লাখ ৩০ হাজার ইউরো পাবে সব কটি সিনেমা। এর মধ্যে বাংলাদেশের সিনেমাটি পাবে ৪০ হাজার ইউরো।
এ বিভাগের সিনেমাগুলো নিয়ে জুরিদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সিনেম্যাটিক ভাষা ও শৈল্পিক চিন্তা প্রতিবারই আমাদের নতুন করে মুগ্ধ করে। তাদের গল্প ও চরিত্র আমাদের ভাবায়, নতুন অভিজ্ঞতা দেয়। ছবিগুলো আমাদের আশা জাগায় আর স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে আমাদের এই পৃথিবীতে সক্রিয় থাকতে হবে।’



